বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

থাইল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

ম ক্রীড়া প্রতিবেদক
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বাছাইপর্বের ম্যাচে সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে নারী টি২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে থাই নারীদের ১১ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে টাইগ্রেসরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের আগে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। দিনের অন্য সেমিতে আয়ারল্যান্ড ৪ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। ফলে আজ রোববার বাছাই পর্বের ফাইনালে আইরিশদের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৪ সালে স্বাগতিক হবার সুবাদে টি২০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৫ সালের বাছাই পর্বে রানার্সআপ এবং ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দু'বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সেমিফাইনাল ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৩ রান করে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১০২ রানের বেশি করতে পারেনি থাইল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ২২ রানের প্রয়োজন ছিল থাইল্যান্ডের। সালমা খাতুনের করা সে ওভারের প্রথম চার বল থেকে পায় ১০ রান। ফলে জিততে হলে শেষ দুই বলে দুটি ছক্কার প্রয়োজন ছিল তাদের। তবে পেরে ওঠেননি দারুণ ব্যাটিং করে নাত্থাকান চানথুম। ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান তিনি। শেষ বলে রোসেনান কানোহকেও বোল্ড করে দেন সালমা। ফলে জয় মিলে যায় বাঘিনীদের। মাঝারি পুঁজি নিয়ে এদিন বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল বোলারদের দিকে। হতাশ করেননি তারা। শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে থাকেন বাঘিনীরা। দলীয় ৭ রানেই অন্নিচা কামচম্ফুকে ফিরিয়ে থাই শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন সালমা খাতুন। তাকে ফারজানা হকের ক্যাচে পরিণত করেন এ স্পিনার। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলীয় ১৩ রানে আরেক ওপেনার নান্নাপাত কঞ্চারোয়েঙ্কাইকে বোল্ড করেন দেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। এর দুই বল পর নাত্তায়া বুচাথামকে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে ফেলেন এ বাঁহাতি স্পিনার। তাতে বড় চাপে পড়ে যায় থাইল্যান্ড। এরপর অধিনায়ক নারুয়েমল চাইয়াইকে নিয়ে দলের হাল ধরেন নাত্থাকান চানথাম। চতুর্থ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। তবে বাঘিনীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের গতি সে অর্থে সচল রাখতে পারেননি তারা। এ জুটি ভাঙেন নাহিদা আক্তার। ফেরান থাই অধিনায়ককে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকেন চানথুম। ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সতীর্থদের কাছ থেকে ভালো সমর্থন পেলে হয়তো ভিন্ন কিছু হতে পারত ম্যাচের ফলাফল। ৫১ বলে খেলেন ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের তিন স্পিনার সালমা ৩টি, সানজিদা ২টি ও নাহিদা ১টি উইকেট নেন। ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা থাইল্যান্ডের চানথাম ম্যাচসেরা হন। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকে বাংলাদেশ। পাওয়ার পেস্নতে বিনা উইকেটে ৭ রান তোলে দলটি। তবে পরের ওভারেই উইকেট হারায় তারা। ব্যক্তিগত ১১ রানে ফান্নিতা মায়ার শিকারে পরিণত হন ফারজানা হক। এরপর আরেক ওপেনার মুর্শিদা খাতুনের সঙ্গে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। স্কোরবোর্ডে ১৮ রান যোগ করতেই ভাঙে এ জুটি। রানআউট হয়ে যান মুর্শিদা। ৫ বলে ২টি চারের সাহায্যে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। মুর্শিদার বিদায়ের পর মাঠে নামেন রুমানা আহমেদ। দারুণ ছন্দে থাকা অধিনায়ক নিগার অবশ্য এদিন খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৬৪ রানে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন। ২৪ বলে ২টি চারে করেন ১৭ রান। আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবে পরিচিত সোবহানা মুস্তারিও তেমন কিছুই করতে পারেননি। ৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তবে বাংলাদেশের স্কোর শতরান পার করতে দারুণ ভূমিকা রাখেন রোমানা। হার না মানা ২৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ২৪ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। তাকে দারুণ সাহায্য করেন রিতুমণি। ১০ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ১৭ রানের কার্যকরী এক ইনিংস খেলেন তিনি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে