নাঈম শেখের ফিফটির পর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ব্যাটে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল খুলনা টাইগার্স। তবে রান তাড়ায় ডেভিড মালানের জ্বলে উঠার দিনে দারুণ ফিনিশিং করেছেন ফাহিম আশরাফ। প্রত্যাশিত জয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলার দিকে এগিয়ে গেল তামিম ইকবালের দল ফরচুন বরিশাল।
মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলে দিরে প্রথম ম্যাচে খুলনাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল। আগে ব্যাট করে খুলনার করা ১৮৭ রান ৫ বল আগে পেরিয়ে জিতেছে বরিশাল। এই জয়ে রংপুরের সমান ১৬ পয়েন্ট হলো তামিম ইকবালের দলের। তবে রানরেটে কিছুটা পিছিয়ে আছে তারা।
বিপিএলে টানা ৮ ম্যাচ জিতে সবার আগে পেস্ন-অফ নিশ্চিত করা রংপুর রাইডার্স ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। কিন্তু রাজশাহীর বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হেরে পয়েন্ট নিতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। এই সুযোগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল রংপুরকে ছুঁয়ে ফেলেছে। ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে সমান ১৬ পয়েন্ট থাকলেও নেটরান রেটে বরিশালের অবস্থান এখন দুই নম্বরে। রংপুর শীর্ষেই আছে।
ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে আগেরদিন অর্থাৎ প্রথম দল হিসেবে চলতি বিপিএল থেকে বিদায় নিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। সোমবার তাদের দেখানো পথেই হাঁটলো খুলনা টাইগার্স। সেই বরিশালের কাছে হারলো তারাও। যদিও বিদায় এখনো হয়নি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল পড়ে গেছে যদি-কিন্তুর মারপ্যাঁচে। অন্যদিকে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই কোয়ালিফায়ার (সেরা দুইয়ে থেকে গ্রম্নপ পর্ব শেষ করা) নিশ্চিত হয়ে গেছে বরিশালের।
এদিন ম্যাচ জয়ে বরিশালের নায়ক মালান। ৩৭ বলে ৮ চার, ৩ ছক্কায় ৬৩ রান করেছেন তিনি। শেষ দিকে নেমে মাত্র ৬ বলে ১৮ রান করে খেলা শেষ করে দেন ফাহিম। বড় রান তাড়ায় নেমে তাওহিদ হৃদয় হন ব্যর্থ। ডানহাতি ব্যাটার ৭ বলে ১১ করে শিকার হন আবু হায়দার রনির। তবে তার বিদায়ের ঝাপ্টা টের পেতে দেননি দাবিদ মালান। ইংলিশ বাঁহাতি ব্যাটার তুলেন ঝড়। তামিম ইকবালকে এক পাশে রেখে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আনেন ৫৬ বলে ৯১ রান। যার মধ্যে ৬১ রানই করেন তিনি।
তামিম ছিলেন সহায়কের ভূমিকায়। বরিশাল অধিনায়ক ২৫ বল লাগিয়ে ২৭ করে সহজ ক্যাচে নেন বিদায়। মালানও ফিরে যান খানিক পর তবে মুশফিকুর রহিম নেমে থিতু হয়েছিলেন, খেলা শেষ করার দিকেই যাচ্ছিলেন। অভিজ্ঞ মাহমুদউলস্নাহর সঙ্গে ২৩ বলে ৩১ রানের জুটিত ভাঙে সরাসরি দ্রম্নতে মাহমুদউলস্নাহর (২৪) বিদায়ে। পরে সহজ ক্যাচে মুশফিকও (২৪) ফিরে গেলে কিছুটা শঙ্কা জেগেছিলো। মোহাম্মদ নবিকে নিয়ে তা উড়িয়ে দেন পাকিস্তানি ফাহিম।
এরআগে টস হেরে ব্যাট করত নেমে ভালো শুরু পায় খুলনা। নাঈম শেখকে নিয়ে ওপেন করতে নেমে চাহিদা মেটানো ব্যাট করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। থিতু হওয়া মিরাজ ১৮ বলে ২৯ করে ইবাদত হোসেনের বলে হোন বোল্ড। নাঈম থামেন ফিফটি পেরিয়ে। ২৭ বলে ৩ ছক্কা, ৫ চারে বাঁহাতি ব্যাটার করেন ৫১ রান। এক সময় মনে হচ্ছিল দুইশো ছাড়িয়ে যাবে খুলনার পুঁজি।
কিন্তু মাঝের দিকে নেমে হতাশ করেন আফিফ হোসেন। খুব আগ্রাসী হতে পারেননি তিনি। ৩২ করতে খেলেন ২৭ বল। শেষ দিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ঝড় না তুললে আরও অনেক কম রানে আটকে যেত খুলনা। ১২ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় অঙ্কের ২৭ খুলনাকে দেয় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা টাইগার্স: ২০ ওভারে ১৮৭/৫ (মিরাজ ২৯, নাঈম ৫১, রস ২০, আফিফ ৩২, বসিস্টো ২০*, নাওয়াজ ২, মাহিদুল ২৭*, ফুলার ৩-০-৩২-১, নাবি ৪-০-২২-১, ইবাদত ৪-০-৪৫-১, ফাহিম ৪-০-৪৯-২, তানভির ১-০-১৬-০, রিশাদ ৪-০-২২-০)।
ফরচুন বরিশাল : ১৯.১ ওভারে ১৮৮/৫ (হৃদয় ১১, তামিম ২৭, মালান ৬৩, মুশফিক ২৪, মাহমুদউলস্নাহ ২৪, ফাহিম ১৮*, নাবি ১৫; মিরাজ ৪-০-২৯-০, আবু হায়দার ২.৪-০-৩৫-২, হাসান ৩.১-০-৩৬-০, বসিস্টো ১-০-৫-০, ইরশাদ ২.২-০-২১-১, নাসুম ৩-০-২৮-০, আফিফ ১-০-১৩-১, নাওয়াজ ২-০-১৮-০)
ফল: ফরচুন বরিশাল ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ডেভিড মালান।