​দর্শনা চেকপোস্টে পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে করোনা সনদ

​দর্শনা চেকপোস্টে পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে করোনা সনদ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার জয়নগর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ভারত থেকে আসা যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে করোনার নেগেটিভ সনদ। আবার টাকা নিলেও তার রসিদ দিচ্ছে না চেকপোস্টে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

চলতি মাসে হাতেগোনা কয়েকজনের করোনা পরীক্ষা করা হলে তার মধ্যে ২৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এমন সময়ে সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ঢিলেঢালা ভাব দেখে ওমিক্রন আতঙ্কে শঙ্কিত স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দর্শনা চেকপোস্টে সব ধরনের যাত্রীর র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। এ কারণে ১০০ টাকা করে জনপ্রতি নেওয়ার কথা। তবে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। আবার নমুনা না নিয়েই করোনার নেগেটিভ সনদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া টাকা নিয়ে পরীক্ষা না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরেন বাংলাদেশি নাগরিক রেখা রানী সাহা। চেকপোস্টে ঢুকে স্বাস্থ্য বিভাগের হেলথ স্ক্রিনিং বুথে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা ছিল তার। কিন্তু তা করা হয়নি। তিনি বলেন, দর্শনা চেকপোস্টে ঢোকার পর আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষা ছাড়ায় আমাকে করোনা নেগেটিভ সনদ ধরিয়ে দেয় তারা। পরে আমাকে চলে যেতে বলে।

বাংলাদেশে আসা অপর দুই যাত্রী বলেন, আমাদের দুজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। নমুনাও নিয়েছে। তবে আমাদের টাকা নেওয়ার রসিদ দেয়নি তারা।

এ দিকে দর্শনা চেকপোস্টের হেলথ স্ক্রিনিং বুথের রেজিস্ট্রার খাতায় দেখা যায়, তালিকায় নমুনা না নেওয়া রেখা রানী সাহার নামই নেই। তাহলে কীভাবে পেলেন করোনার নেগেটিভ সনদ, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা হয় হেলথ স্ক্রিনিং বুথে দায়িত্বরত কর্মকর্তা দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) জামাত আলীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, এমন ঘটনার কথাই নেই। অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে তিনি হয়তো নমুনা না দিয়েই চলে গেছেন। আবার কোনো কোনো সময় ভিড়ের কারণে অনেক রসিদ দেওয়া হয় না। আবার দুই-একটা মিসও হতে পারে।

ক্যানসার, ত্বক, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এবং ১২ বছরের নিচে যারা আসেন তাদের ইমিগ্রেশনের সুবিধার্থে নেগেটিভ রিপোর্ট দিতে হয় বলে স্বীকার করেন জামাত আলী।

স্থানীয়রা বলছেন, শুরু থেকেই চেকপোস্টের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছে। নমুনা না নিয়ে করোনার নেগেটিভ সনদ দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়বে। দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তারা।

দর্শনা ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে ১৯৪৮ বাংলাদেশি নাগরিক, ১২২৯ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ থেকে ১৪৩৫ বাংলাদেশি নাগরিক ও ১৯৪৯ ভারতীয় নাগরিক ভারতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১১ বাংলাদেশি এবং ১৬ ভারতীয় নাগরিকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি মিললেও ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মো. জামাল শুভ বলেন, দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশের সময় অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ভারতের কোনো যাত্রী করোনা পজিটিভ হলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। দেশের কোনো যাত্রী পজিটিভ হলে তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়ে থাকে। তবে দেশত্যাগ বা প্রবেশের সময় করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতেই হবে। অর্থ আদান প্রদানের বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে