বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে জমজমাট প্রচারনা

স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৫৫

নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের ২ নভেম্বর আসন্ন উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সকাল থেকে রাতঅবদি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে জনসংযোগসহ মতবিনিময় সভা চালিয়ে যাওয়ায় প্রচার প্রচারনা এখন জমজমাট।

আসন্ন উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. মজিবুল আলম ফারাস হীরা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান মানিক, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবুল মনসুর আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের টানা তিনবার নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেত্রী তুহিন আক্তার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মারুফ হাসান খান অভ্র, জেলা যুব মহিলালীগ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দা শামছুন্নাহার বিউটিসহ কয়েকজন প্রার্থী ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মজিবুল আলম ফারাস হীরা ১৯৮৯ সাল থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সম্মানিত সদস্য, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সফল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাবেক ছাত্রনেতা মজিবুল আলম ফারাস হীরা বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শাসনামলে একাধিকবার হামলা, মামলাসহ নির্যাতনের শিকার হন।
আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সদর উপজেলা পরিষদ বির্নিমানের লক্ষ্যে জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মজিবুল আলম ফারাস হীরার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। পিতা নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আব্দুল হান্নান ফারাসের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান মদনপুর শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রঃ) মাজার জিয়ারত, রাজনৈতিক আদর্শ ও গুনাবলীর কথা শুনে মজিবুল আলম ফারাস হীরা মদনপুর শাহ সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজনীতি করার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের রশিদের মাধ্যমে মদনপুর স্কুল শাখা ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৩ জন প্রান হারালে এর প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুল আলম ফারাস হীরার নেতৃত্বে শহরে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ২৪ আগস্ট হরতাল পালনকালে সকাল ৯টার দিকে জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম ফজলুর রহমান খানের চেম্বার থেকে হীরাসহ কয়েক ছাত্রনেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরীক্ষিত সৈনিক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মজিবুল আলম হীরাকে নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আতাউর রহমান মানিক ১৯৮১-৮২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৮৪-৮৬ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আতাউর রহমান খান মানিক ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত নেত্রকোনা সদর উপজেলা আ’লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সদর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি জেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা মার্কায় প্রায় ৪৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান। তিনি জেলা আ’লীগের টানা ৩০ বছরের সভাপতি ও সদর আসনের ৩ বারের নির্বাচিত এমপি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জননেতা মরহুম ফজলুর রহমান খানের সহোদর। হাফিজুর রহমান খান ১৯৭৮ সালে নেত্রকোনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, ১৯৭৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা শাখার সহ-সভাপতি, ১৯৯০ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৫ সালে জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে জেলা আ’লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ২০১৭ সালে জেলা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আ’লীগের সম্মানিত সদস্য তুহিন আক্তার বিগত ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী ও ২০১৯ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নির্বাচিত এমপি, বাংলাদেশ শাসনতন্ত্র রচনা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ সংবিধানের স্বাক্ষরকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মজিদ তারা মিয়ার সুযোগ্য কন্যা তুহিন আক্তার প্রায় ১৪ বছর যাবৎ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। আওয়ামীলীগ নেত্রী তুহিন আক্তার ১/১১ চলাকালে রাজপথের আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিলে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়ায় ওই সময়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হন। সদর উপজেলার সর্বত্রই একজন সৎ. দক্ষ, পরিছন্ন ইমেজ এবং রাজপথের আন্দোলনের নেতৃর্ত্বের অধিকারী তুহিন আক্তারের ব্যাক্তিগত, দলীয় এবং পরিবারের ব্যাপকভাবে ঐতিহ্য রয়েছে।

মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মারুফ হাসান খান অভ্র মরহুম অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের সুযোগ্য সন্তান। তিনি ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের (নেকসু) নির্বাচিত ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সম্মানিত সদস্য, ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য, ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক, ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সফল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১ মার্চ সদর উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে মারুফ হাসান খান অভ্র সাধারন
সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সাবেক ছাত্রনেতা মারুফ হাসান খান অভ্র ২০০২ সালের ৩ এপ্রিল জোট সরকারের রোষানলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করে কারাবরণ করেছেন। মরহুম পিতা অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের রেখে যাওয়া অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মারুফ হাসান খান অভ্র সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করে চলেছেন।

 

যাযাদি/এসএস

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে