সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

দুই যুগ পর এক মঞ্চে লতিফ ও কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৩

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছেন, কাদের সিদ্দিকী ইতিহাসের গর্বিত সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের মহামানব। তার বীরত্বগাঁথা ইতিহাসে বিরল। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে তিনি এক লাখ চার হাজার অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর কাছে জমা দিয়েছিলেন। এ ঘটনা  একটি বিষ্ময়। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে কাদেরিয়া বাহিনীর গৌরবোজ্জল চিরদিন সমুজ্জল থাকবে। 

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে মুক্তিযুদ্ধকালীন কাদেরিয়া বাহিনীর বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হওয়ায় মিলনমেলায় পরিণত হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। জাতির বীর সন্তানরা একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। 

শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ তা আমার জন্য বিব্রতকর। আমরা এই অনুষ্ঠানটিকে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখতে চাই। সম্পর্কের কোনো অবনতি থাকলে তা জাতীয়ভাবে নিতে চাই না। জাতীয়ভাবে আমরা মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।

তিনি বলেন, কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র লুট করে মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করেছে। সেই অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা আমার চেয়েও সাহসী ছিলেন।
কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, বাঘ বুড়ো হয়- কিন্তু তার থাবা বুড়ো হয় না। বয়স আমাদের হতে পারে। এই ৫২ বছরে আমরা সেই ২৫-২৬ বছরের টকবগে যুবক নই। তাই ঘোলা পানিতে কেউ মাছ শিকারের চেষ্টা করবেন না।

মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে টাঙ্গাইলের কমান্ডার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমাকে শেখ হাসিনা বহিস্কার করে নাই। দেশের একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর বাড়াবাড়ি ও তৎকালীন প্রেক্ষাপটের কারণে আমি দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছি। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে আমার দ্বন্দ্ব আজকের নয়- রাজনীতিতে আসার সময় থেকে। দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সব সময় সুযোগের সন্ধানে থাকে, তারা আবার মাথাচাড়া দিতে চেষ্টা করছে- তাদেরকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই। 

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতি রোমন্থন করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মনে হচ্ছে- সামনে আরও কঠিন যুদ্ধ আসন্ন। সে যুদ্ধে জয়ী হতে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় এমপি বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে এই অনুষ্ঠানে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি কাদের সিদ্দিকীকে বঙ্গবন্ধুর স্বার্থক আদর্শিক পুত্র অবহিত করে বলেন, আসুন আমরাও আপনাকে নিয়ে পথ চলতে চাই। ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনে এক বৃত্তে থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানীরা। স্বার্থক পিতার স্বার্থক উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়বো।

কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব, কবি আল মুজাহিদী, আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিনী নাসরিন সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, জেলা জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম চাকলাদার, আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম, হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক প্রমুখ।

প্রকাশ, দীর্ঘ ২৪ বছর পর সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও তার ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) ওই অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে একত্রিত হন। কাদেরীয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদানের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের এক মঞ্চে হাজির হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। এর আগে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে কালিহাতীর আউলিয়াবাদের একটি অনুষ্ঠানে দুই ভাই এক মঞ্চে উপস্থিত হন। এরপর নানা কারণে দুই ভাইকে আর এক মঞ্চে দেখা যায়নি।
এসএম
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে