মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

বইয়ের উপর সওয়ার হয়ে সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় নেমেছে: শ্রীপুরে শিক্ষামন্ত্রী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১:২১

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে জনগণের রায় উপেক্ষা করে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না, পেছনের দরজা দিয়ে এসে শেখ হাসিনা সরকারকে অপসারণ করা যাচ্ছে না, তাই আজকে এই অপশক্তি আজকে আবার বইয়ের ওপর সওয়ার হয়েছেন। বইয়ের উপর সওয়ার হয়ে তারা সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় নেমেছেন।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পিয়ার আলী কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিয়ার আলী কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি, কলেজের পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাড. মোশারফ হোসেন ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ। এসময় নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল খায়ের।

শিক্ষমন্ত্রী বলেন, একটা গোষ্ঠী আছে নষ্ট করে ফেলল, ধ্বংস করে ফেলল। ৫০ এর দশকের ৫৪ এর নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল নৌকায় ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। আপনাদের জানা আছে কারও বিবি তালাক হয়েছিল? একজনেরও বিবি তালাক হয় নাই, নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে। ৯০ এর দশকে বলেছিল নৌকায় ভোট দিলে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে, মসজিদে নাকি উলু ধ্বনি উঠবে। আজকে যারা ফেনীতে থাকেন, তারা কি ভারতের নাগরিক না বাংলাদেশের নাগরিক? নাকি বাংলাদেশের নাগরিক? তারা সকলেই এখন স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক।

তাহলে এ অপপ্রচার গুলো নৌকার বিরুদ্ধে, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে সারা জীবনই ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ তার জন্মলগ্নে বলেছিল, আওয়ামীলীগ কোরআন সুন্নাহ্ বিরোধী কোন কিছু করবে না। আজও আওয়ামীলীগ সেই ঠিক একই জায়গায় আছে, কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনদিন কোনকিছু করেনি করবেও না। যেহেতু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, যেহেতু শেখ হাসিনার সরকারকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবার অনেক রকমের চেষ্টার পরও কিছুই হচ্ছে না। তাই আজকে এই অপশক্তি আবার বইয়ের ওপর সওয়ার হয়েছেন। বইয়ের উপর সওয়ার হয়ে তারা সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় নেমেছেন।

মন্ত্রী বলেন, একদম প্রথম অভিযোগ উঠল নবম-দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইতে ভুল। একটা তথ্যগত ভুল ছিল, সঙ্গে সঙ্গে আমরা সংশোধন করেছি। আরও কয়েকটি বলা হয়েছিল ভুল, সেগুলোও এক ভাবে বলাছিল কেউ কেউ বলেছেন একটু ভিন্ন ভাবে বলতে আমরা তা পাল্টে দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনী চলে গিয়েছে। নবম দশম শ্রেণী বইগুলো কিন্তু ২০১৩ সালের বই। এই বইগুলো ১০বছরে আমাদের নিশ্চয়ই নজরে আসার উচিত ছিল কারও নজরে আসেনি।

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আসলে কোন শ্রেণীর বই লেখক এবং সম্পাদক তারা ছাড়া আর শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী ছাড়া আর তো কেউ পড়ে না। আর এবার সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এবার সবাই বই পড়ছেন। বই পড়ে খুঁজে খুঁজে খুঁজে ভুলটুল সব বের করছেন। আপনাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা যারা পড়ছেন, যে আমাদের আগামীদিনের বই নির্ভুল হবে আপনাদের এ প্রচেষ্টা ফলে, কাজেই আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

মন্ত্রী জানান, বইয়ে যা নেই আপনারা বললেন তা আছে, মিথ্যাচার করলেন। বইয়ে কোথাও বলা নেই বানর থেকে মানুষ হয়েছে, বরং বলা আছে যে বানর থেকে মানুষ হয়েছে এ কথা ঠিক নয়, তিনবার বলা আছে একবার নয়। আরও অনেক প্রশ্ন তুললেন। সবগুলোই মনগড়া। কি কারণে, কেন হঠাৎ করে নতুন শিক্ষাক্রমের উপরে আপনাদের এই আগ্রাসন।

মন্ত্রী আরও জানান, আমাদের মুল চেষ্টা যেইটি, আমাদের সমাজের শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে নিরুৎসাহিত করা হতো। প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত করা হতো, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি সারাক্ষণ আর ঘরের মধ্যেই গণতন্ত্রকে জায়গা দেই না, শ্রেণী কক্ষে গণতন্ত্রকে জায়গা দেই না। বাচ্চাদের প্রশ্ন করতে দেই না, এক প্রশ্নের পরে দুই প্রশ্ন করলে আমরা বড়রা বলি বেশি কথা বলে, এত প্রশ্ন কেন বলে। আমরা নতুন শিক্ষাক্রমে বলেছি শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করবে যত প্রশ্ন করবে তত বেশি শিখবে। তার অনুসন্ধিৎসু মন যেটাকে উস্কে দিতে হবে, সে শিখবে সব জায়গা থেকে শিখবে। এখন জ্ঞানের উৎস শুধুমাত্র একজন শিক্ষক নন। এখন চতুর দিকে জ্ঞানের বহু উৎস আছে। সামনে ফুল আছে,পাতা আছে, গাছ আছে সে সব কিছু থেকে শিক্ষা নিবে।

এখন যারা এই আগ্রাসন চালাচ্ছে তাদের ভয় কিন্তু সেখানেও। এই সমাজে যদি আমাদের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী তারা যদি প্রশ্ন করা শিখে যায়, তারা যদি সু² ভাবে প্রশ্ন করা শিখে যায় তারা যদি সমস্যা নিরুপন করা সমস্যা সমাধান করা শিখে যায় তাহলে তাদেরকে আর কোন অপরাজনীতি দিয়ে, ধর্মের অব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মের জুজু দেখিয়ে আর তাদেরকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। এই অপশক্তির সেখানেই সমস্যা। অতএব আগ্রাসন চালাও এই শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। এ ঢিলে অনেক পাখি, সরকারকে একদম টলিয়েই দিবো, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আসতেই দিবো না। প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখুন আপনাদের সবার আশেপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে গিয়ে দেখুন ৬ষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীরা কি আনন্দের সাথে শিখছে। বাবা-মায়েরা বলছেন আমাদের বাচ্চাদের এত খুশি আগে কখনো দেখিনি। স্কুলে যাবার জন্য উদগ্রীব থাকে। আমরা তো চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দময় পরিবেশে শিখবে, জ্ঞান অর্জন করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, চিন্তা করতে শিখবে যোগাযোগ স্থাপন করতে শিখবে, সমস্যা নিরুপন করতে শিখবে, সমস্যা সমাধান করতে শিখবে। একই সঙ্গে সততা মানবিকতা সহমর্মিতা পরিসহিষ্ণুতা সবার প্রতি সহযোগিতা এই মূলবোধগুলো নিয়ে দেশপ্রেম নিয়ে তারা বড় হয়ে। দেশকে ভালবাসবে, মানুষকে ভালবাসবে, পরিবেশকে ভালবাসবে, সচেতন হবে, দায়িত্বশীল হবে, সক্রিয় হবে, সুনাগরিক হবে, বিশ^ নাগরিক হবে। কাজেই শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সেই স্মার্ট নাগরিক, আমি বিশ^াস করি সেই স্মার্ট নাগরিক অর্থ সৎ নাগরিক, সেই স্মার্ট নাগরিক অর্থ পরম সহিষ্ণু নাগরিক। সেই স্মার্ট নাগরিক অর্থ অসাম্প্রদায়িক নাগরিক।সেই স্মার্ট নাগরিক যে অন্যের সাথে সহযোগিতা নিয়ে চলে।

আসুন আমরা মিথ্যাকে প্রশয় না দেই। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে কানে আগে হাত দিয়ে দেখি চিলের পেছনে ছুটাটা বাদ দেই। বইয়ে আসলেই কি আছে সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করে নিই। সবার বাড়িতে কিংবা আশপাশে পাড়া প্রতিবেশী বা পাশের স্কুলে বই আছে অথবা এনসিটিবি’র ওয়েয়বসাইটে গিয়ে বইটা পড়ে নিতে পারেন।

টিউলিপ বাগানে শিক্ষামন্ত্রী এর আগে মন্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরের ফুলচাষী দেলোয়ার হোসেনের টিউলিপ বাগান পরিদর্শন করেন।

তিনি এ সময় বলেন, দেলোয়ার- সেলিনা দম্পতির প্রচেষ্টায় টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে, তারা ফুলের চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চান, তারা অনেককেও শিক্ষাও দেন। আমাদের সৌন্দর্যবোধেরও একটি প্রয়োজন রয়েছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষ সৌন্দর্য পিপাসু, ফুলের মাধ্যমে এ সৌন্দর্যবোধটাও আমরা আশা করি সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ার মধ্যে টিউলিপ ফুটানো কত কষ্টকর কাজ একসময় যা অসম্ভব ভাবতাম সে কাজটিই ফুলের প্রতি ভালবাসায় দেলোয়ার-সেলিনা দম্পতি সম্ভব করেছেন। এ টিউলিপ ফুটানোর অনেক শ্রম আছে, নানা টেকনোলজির বিষয় রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সব জেনে নানা পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্য দিয়ে তারা সফল হয়েছেন। তবে টিউলিপ ফুলের বাল্ব সংরক্ষণের জন্য যেসব সুবিধা দরকার তা আমাদের এখনও নেই। তবে আমাদের সরকারের উদ্যোগে কৃষিতে যে ব্যাপক গবেষণা ও উন্নয়ন হচ্ছে এর সুফল এখন আমরা পাচ্ছি। ফুল চাষেরও উন্নয়ন হচ্ছে। এখন সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ফুলচাষ হচ্ছে। কাজেই আমি নিশ্চিত ফুলচাষের জন্য সরকারী যদি কোন সহায়তার কারো প্রয়োজন হয় সরকার সাধ্যমতো তা করবে। যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে