বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

কোম্পানীগঞ্জে খতনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের শিকার শিশুকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:০৯

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খতনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের শিকার শিশুটিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান (সিনিয়ন কনসালটেন্ট) ডা: সাইফ উদ্দিন শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে যান। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী দুপুরে শিশুটিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পাঠানো হয়। এ হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছেলে বলে জানান সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: সাইফ উদ্দিন।

এদিকে এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে’কে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

একই সাথে শিক্ষানবিশ চিকিৎসা সহকারী সৌরভ ভৌমিকের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার দিন দায়িত্বরত সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটির দেওয়া হয়েছে।ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: মোহাম্মদ সেলিম জানান, ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মহিউদ্দিন এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান। এ সময় তারা শিশুটি ও তার বাবা সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।

পরে ঘটনার উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে’কে সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্বাস্থকেন্দ্রে বদলি আদেশ এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসা সহকারী সৌরভ ভৌমিকের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধের আদেশ দেন।

এছাড়া ঘটনার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটির দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মো: যোবায়েরকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: শাহাদাত হোসেন। কমিটিকে আগামি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তে এ ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী শিশুটি নাম আল নাহিয়ান তাজবীব (৭)। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন বাদলের ছেলে এবং বসুরহাট পৌরসভা এলাকার চাইল্ড কেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, বুধবার সকাল ১১টার দিকেব ছেলেকে খতনা করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি। এ সময় তিনি চিকিৎকের খোঁজ করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ্য প্রহরীসহ তিনজন শিশুটিকে তার কাছ থেকে জরুরী বিভাগে নিয়ে এবং চিকিৎসক আসবেন বলে নিজেরাই খতনা করতে থাকেন। এ সময় তিনি আবারও চিকৎকের খোঁজ করলে তারা নিজেদেরকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দাবি করে এদিন সকালে তারা আরো দুই শিশুর খতনা করেছেন বলে তাকে (শিশুটির বাবাকে) বের করে দেন।

এক পর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে তিনি জরুরী বিভাগে গিয়ে তার (শিশুটির) পেনিসের চামড়ার নিচের দিকে কিছু অংশ কেটে যায় এবং এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে দেখেনে। এ বিষয়ে উল্লেখিত তিনজনের কাছে তিনি জানতে চাইলে তারা শিশুটিকে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন শিশুটির বাবা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসা সহকারি সৌরভ ভৌমিকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্তা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিশুটি এখন সুস্থ আছে। খতনার সময় তার পুরুষ অঙ্গের চামড়ার নিচে একটু কাটা পড়ার ফলে রক্তক্ষরণ হয়, যা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এতে শিশুটির স্বজনরা ঘাবড়ে যান। তবে, স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে