শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

যমুনা নদী তীরে দর্শণার্থীদের ঢল

আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল
  ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২০:১৬
ছবি : যায়যায়দিন

ঈদের আনন্দ উপভোগ আর যান্ত্রিক জীবনে কর্মব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয় মানুষকে সাথে নিয়ে যমুনার তীরে উপভোগে মেতেছে বিনোদন প্রেমীরা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের অন্যতম বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে যমুনা নদীর তীরবর্তী গরিলাবাড়ী এলাকায় পাথরঘাটে গড়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র। যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু ও নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে রেল সেতু দেখতে ছুটে আসছেন টাঙ্গাইলসহ দেশের নানা প্রান্তের বিনোদন প্রেমী মানুষ। এই বিনোদন কেন্দ্রে সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত হয়ে ওঠে মনোরম, মনে করিয়ে দেয় কক্সবাজারের সমুদ্র্র সৈকতকে ।

এই বিনোদন কেন্দ্রটি ছাড়াও এখানে রয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেতু, আনন্দ পার্ক, বঙ্গবন্ধু সেতু রিসোর্ট, প্রাণিজাদুঘর, শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল, সেনানিবাস, কপি হাউজ ও বিপণী-বিতান মার্কেট, সুইমিংপুল, হরিণ দেখার দৃশ্য, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর এবং ঔষধি গাছের বাগান।

দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নৌকা বা ছোট ট্রলার ও স্পিডবোট যোগে নদীতে ঘুরে বেড়ানো ও পথে বঙ্গবন্ধুসেত শেখ মুজিবুর রহমান রেলসেতুু দেখার ব্যবস্থা। এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে পাথরঘাটে অর্ধশত নৌকা সারিবদ্ধভাবে মাঝিরা সাজিয়ে রেখেছেন দর্শনার্থীদের জন্য। এখানে খেলনার দোকান, ফুসকা হাউজ ও সহ ফাস্ট ফুডসহ নানা রকম দোকানপাট গড়ে উঠেছে।

ঈদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ের পাথরঘাট এলাকায় দেখা যায়- যমুনার পাড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সূর্যাস্ত দেখছেন, কেউ তাদের পছন্দের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে আসেন। এখানে নৌকা বা ট্রলার দিয়ে ঘুরতে জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুকে দেখছেন খুব কাছ থেকে। এছাড়াও পাশেই নির্মাণাধীন রেল সেতুর কাজ দেখছেন। অনেকেই শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা কিনে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ কেনাকাটাও করছেন। এখানে বিকালে ব্যাপক মানুষের উপচে পড়া ঢল নেমে যায়।

স্থানীয়দের ছাড়াও টাঙ্গাইল, কালিহাতী, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ি সখিপুর ও গাজিপুর থেকে চুটে আসেন এই যমুনার তীরে। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে ঘুরতে আসা জান্নাতুল আক্তার, কলি ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর আমরা কর্ম ব্যস্ততা ও সংসার নিয়ে থাকি। ঈদের দিনটি অন্য দিনগুলো থেকে আমাদের কাছে আলাদা একটি দিন। তাই ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে উপভোগ করতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে আসছি। এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। সত্যিই খুব ভাল লাগছে। প্রতি উৎসবেই ঘুরতে আসব এখানে। তাছাড়া এই বিনোদন কেন্দ্র কম খরচে বিভিন্ন স্পটও ঘুরে দেখা যাচ্ছে। পরিবেশটাও বেশ মনোরম।

বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা রানা মন্ডল বলেন, এরআগে সেতু দেখতে পরিবার নিয়ে আসা হয়নি। এবার যেহেতু লম্বা ছুটি পেয়েছি তাই ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে এসেছি। পরিবারের লোকজন এই প্রথম বঙ্গবন্ধু সেতু সরাসরি দেখতে পেল। এখানে এসে খুব ভাল লাগছে। বাচ্চারাও অনেক আনন্দ উল্লাস করছে, এখানে আসতে পেরে। যমুনার তীরে এই জায়গাটি যেহেতু বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ পেয়েছে তাই সরকারের উচিত আরও উন্নত ব্যবস্থা করা। এতে করে আরও লোকজনের সমাগত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে এ সেতু দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসে। বর্তমানে আরেকটি সেতু যুক্ত হয়েছে সে কারণে এখানে একটি স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু টাঙ্গাইলে তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নাই।

বেড়াতে আসা দর্শণার্থী করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের ছাত্র তন্ময় বলেন, এখানে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার নির্মাাণ করা হলে সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দর্শণার্থীদের নদী ও নদীপাড়েরর দৃশ্য উপভোগ করা সহজ হবে। সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিলে এখানে দেশের বৃহত্তম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবে সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় গত ঈদের মতো এ ঈদেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান, বঙ্গবন্ধু (সেতুপূর্ব) নৌ ফাঁড়ির এএসআই শাহ্ আলম । এছাড়া স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ দর্শনার্থীসহ রাজনীতিবিদ দেশের বিশিষ্টদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নৌ পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সে লক্ষ্যে পুলিশের দুইটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ঘুরতে আসা কোনো দর্শনার্থী এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বা হয়রানির অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে