শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

লিটন চৌধুরী সেতু বদলে দিয়েছে লাখো মানুষের জীবনধারা

এস.এম. দেলোয়ার হোসাইন, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
  ১৫ মে ২০২৪, ১৩:১৩
ছবি: যায়যায়দিন

মাদারীপুর শিবচর উপজেলায় ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু বদলে দিয়েছে পুরো জনপদের জীবন। উপজেলার উৎরাইল ইউনিয়নের উৎরাইল হাটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর নির্মিত লিটন চৌধুরী সেতু বদলে দিয়েছে দুই পাড়ের লাখো মানুষের ভাগ্য। গ্রামীণ এ জনপদে সূচিত হয়েছে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত।

একে শুধুই একটি সেতু বললেও স্থানীয়দের কাছে তা কেবলই সেতু নয়; লক্ষাধিক মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম নদীর উপর একটি সেতুর স্বপ্ন দেখে বেড়ে উঠেছে। আর ৫৫০ মিটারের লিটন চৌধুরী সেতুটি যেন হাজার বছরের দূরত্বকে ঘুছিয়ে দিয়েছে।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শুরু হয়। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর নির্মিত এ সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপজেলার উৎরাইলসহ দত্তপাড়া, নিলখী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম। এতে উপকারভোগী গ্রামগুলোর মানুষ বেশ খুশি। গড়ে উঠেছে সেতুর দু'প্রান্তে বিভিন্ন দোকানপাট।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর লিটন চৌধুরী সেতু নির্মাণের ফলে আমাদের গ্রামের মানুষ বেশ উপকৃত হয়েছে। এ সেতুর অভাবে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো ও শিবচর সদরের সাথে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। নদীর এপাড়ের সঙ্গে ওপাড়ের মানুষের ইচ্ছে থাকলেও মেলবন্ধন হতো না। লিটন চৌধুরী সেতুটি যেন হাজার বছরের দূরত্বকে ঘুছিয়ে দিলো। এ জন্য মাননীয় চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীকে ধন্যবাদ।

দবির মাদবর নামের আরেক স্থানীয় জানায়, শিবচরে বিভিন্ন কাজে যেতে হলে নৌকায় ১০ টাকা দিয়ে পার হওয়া লাগতো। এখন নিমিষেই নদী পার হচ্ছি। শিবচর, শেখপুর যেখানেই ইচ্ছে চলে যাচ্ছি। আমরা শিবচরের উন্নয়নের জন্য আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছি। সে প্রদীপটি হলো মাননীয় চিফ হুইপ মহোদয় নূর ই আলম চৌধুরী।

উৎরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। আগে সড়ক পথে সূর্যনগর হয়ে পাঁচ্চর ঘুরে সদরে যেতে সময় লাগত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। এখন সেতু হয়ে যাওয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই যাওয়া আসা করা যায়।

উৎরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, উৎরাইল বাসীর দূঃখ ‘আড়িয়াল খাঁ নদ’ এর কারণে এ অঞ্চলটি শিবচর সদরের সাথে যোগাযোগ সহজলভ্য ছিল না। বিধায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে যুগযুগ ধরে এ জনপদ অবহেলিত ছিল। ব্রিজটি এলাকার মানুষের স্বপ্ন ছিলো। বাস্তবায়ন হওয়ায় পুরো এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যাতায়াত সহজ হয়েছে। মাননীয় চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীর অবদানে এটি সম্ভব হয়েছে।

শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কে.এম. রেজাউল করিম বলেন, ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের ফলে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ উপকৃত হয়েছে। এতে এতদঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও টেকসই হয়েছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, লিটন চৌধুরী সেতুটি দুপারের মানুষদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। সেতুটির ফলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দূরত্ব কমেছে এবং যাতায়াত খরচ কমে যাওয়ার কারনে অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। গড়ে উঠেছে দোকানপাট এবং ব্যবসা বাণিজ্য। সম্ভাবনার দুয়ার খোলায় একটা সেতুতেই পাল্টে গেছে এলাকাগুলোর চিত্র।

যাযাদি/ এসএম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে