শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, বেপরোয়া শিশুকিশোররা

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  ২৫ মে ২০২৪, ১১:৫১
-ফাইল ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি দক্ষিণে তালুকদার ভিটায় মাদক সেবনের জেরে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে ছুরি দিয়ে মারামারি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট হয়। অন্যদিকে গাজীপুর ইউনিয়নে নেশার টাকার জন্য মায়ের হাতের রগ কেটে দেয় সন্তান। এছাড়াও পৌর এলাকার বহেরারচালায় মাদকের জেরে লতিফ নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা। সবশেষে ২১ মে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি মাটির মসজিদ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তার জেরে ফরহাদ নামের এক কলেজ ছাত্রকে গুলি করে হত্যা। কিশোরদের এসব বেপরোয়া অপরাধের পেছনে সর্বোপরি হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। আর বর্তমানে শিশু কিশোরদের মধ্যে মাদক ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উদ্বেগ প্রকাশ হয়।

ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সমাজসেবকদের দেওয়া তথ্যমতে, শ্রীপুর পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে, ভাংনাহাটি ও লোহাগাছ গ্রামের মধ্যভর্তি এলাকার ফালুমার্কেট, তালুকদার ভিটা,বেড়াইদের চালার আসপাড়া মোড়ের পশ্চিমে কিচ্ছাবাড়ি, বহেরারচালা,মাওনা চৌরাস্তা, উজিলাব মারকাপের মোড়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ, মাওনা ইউনিয়নের অবদার মোড়, বরমী ইউনিয়নের কেন্দুয়া, সাতখামাইর,কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া,মধ্য বাজার হিন্দুপট্রি, রাজাবাড়ির নার্সারির মাঠ বিন্দুবাড়ি জিউসি, মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া,গোসিংগা ইউনিয়নের খোজেখানী,বাউনি, প্রহলাদপুর ইউনিয়নের মারতা,গাজীপুর ইউনিয়নের বাশঁবাড়ি ও কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়ার একাধিক স্থানে দিবারাত্রি চলে মাদকের রমরমা বাণিজ্য।

দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তেলিহাটি ইউপি মেম্বার তারেক হাসান বাচ্চু। তিনি বলেন, "এ ইউনিয়নের মাদকের ছড়াছড়ি এখন উম্মুক্ত রহস্য। অনেক সময় পুলিশ ওদের ধরলেও অদৃশ্য কারনে ছেড়ে দিচ্ছে। তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা এলাকার মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর সরকারকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ধরে পুলিশ। তারপরও ওই এলাকায় মাদক থামেনি। তেলিহাটির আবদার এলাকার আজিজুলের পরিবার, ডোমবাড়ির চালার হাজারিচালার শাজাহানের পরিবার ও মজনু কাশেম, আবদার শাইল্লাবাড়ি জহির, হুমায়ুন কবির সরাসরি মাদক কারবারের সাথে যুক্ত হলেও সবাই না দেখার ভান করে"।

কাওরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, "বর্তমানে না বুঝে মাদকের সাথে শিশু কিশোররাই বেশী জড়িয়ে পড়ছে। আমার ইউনিয়নের সীমান্তের কয়েকটি স্থানে মাদকের ছড়াছড়ি মাত্রারিক্ত। এছাড়াও কাওরাইদ বাজারের কয়েকটি স্পট আছে যেগুলো সাক্ষাতে এসে বলবো"।

প্রহলাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, "গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সীমান্ত ও শ্রীপুরের প্রহলাদপুরের বাশকোপা গ্রামের শেরালিয়া বাড়ি ঘাটপাড়, মারতা গ্রামের চরমাখা পাকা ব্রীজ,বাঘাই ব্রীজ এলাকা,ফাওগাইন বাজার, আতলরা গান্ধী বাড়ি চৌরাস্তায় মাদকের ছড়াছড়ির বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করেছি"।

মাদকের বিরুদ্ধে মাইকিংয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ ঘোষণা করেও প্রতিরোধে ক্লান্ত গাজীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাদবর। তিনি বলেন, "ভালুকার কাচিনার সীমান্ত নিয়ে আমার ইউনিয়নে বাঁশবাড়ি মধুমার্কেটে মাদক আসে। সেখানে ওপেন কেনাবেচা হয়। এছাড়াও আমার এলাকার কয়েকটি স্থানে মাদকের ছড়াছড়ি রয়েছে যা থানায় অবগত করেছি"।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন," গাজীপুরের মাদকাসক্তদের প্রতি ২০ জনের মধ্যে ৫জনই শিশুকিশোর। যাদের অধিকাংশ গাঁজা সেবন করে। শিল্পায়নের ফলে বাবা-মার চাকরির সুবাদে শিশুকিশোদের নজর কম,বন্ধুবান্ধবের মাদক গ্রহণ, হতাশা, অতিরিক্ত রাগ-জেদ, সমাজের প্রতি বিরক্তি, বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রশ্রয় বা শাসন,অভিভাবকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অভিভাবকরা সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন অপরিমিত অর্থ, প্রাচুর্য ও ব্যাপক স্বাধীনতা। এই প্রশ্রয় সন্তানকে করে তোলে বেপরোয়া, দুর্বিনীত ও অপরাধী। নিয়মিতই নতুন শিশু যোগ হচ্ছে।

এ বিষয়ে আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন,"শিশু-কিশোররা যদি নিয়মিত মাদক সেবন করে তাইলে এর ফল জাতির ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো নয়। মাদকের কারণেই চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে"।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান যায়যায়দিনকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিতই অভিযান চলছে। গত ২ মাসে ১৫টি মামলায় আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং নির্মূলে কাজ করছে পুলিশ’।

যাযাদি/ এসএম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে