বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দুর্গাপুরে হতাশায় কর্মকার শিল্পীরা

দুর্গাপুর (নেত্রকেনা) প্রতিনিধি
  ১১ জুন ২০২৪, ১৮:২৫
ছবি-যায়যায়দিন

পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানির পশু জবাই ও গোশত টুকরো করার জন্য দা, ছুরি অপরিহার্য। আর এ দা ছুরি তৈরি করছেন কামার শিল্পীরা। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে হতাশার মাঝে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অন্য বছরগুলোতে দম ফেলবারও যেন ফুসরত ছিলনা কিন্ত এবার নতুন বিক্রির চেয়ে পুরনো যন্ত্র গুলোই মেরামত করে নিচ্ছেন গ্রাহকগণ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পৌরশহরের দেশওয়ালীপাড়া, শিবগঞ্জ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কুমুদগঞ্জ, ঝাঞ্জাইল, কালিকাপুর, গাওকান্দিয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, চাকু, বটি, ধামাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মেরামত করছেন কামাররা। এসব ব্যাবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য অঞ্চলের বাজার গুলোতে নিয়ে যাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এ শিল্প জমে উঠলেও নতুনের চেয়ে পুরাতন কাজই এবার বেশি।

দা ছুরিতে শান দিতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, কদিন পর কামাররা আরো ব্যস্ত হয়ে পড়বে, তাই দা ছুরিতে শান দেওয়ার জন্য আগেই নিয়ে আসলাম। এবার নানা দাম বেশির কারনেই নতুন দা ছুরি কেনা হচ্ছে না। পুরাতন গুলো দিয়েই এবারের কোরবানির কাজ শেষ করবো।

এনিয়ে কুমুদগঞ্জ এলাকার কারিগররা অভিযোগ করেন, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম। সারা দিন আগুনের পাশে বসে থাকতে হয়। ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এলাকায় কমে যাচ্ছে কামার সম্প্রদায়। বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করছে অনেকে। বিগত দিনে অনেকেই সরকারি প্রনোদনা পেয়েছে, কিন্তু আমরা কোন প্রকার অনুদান পাইনি।

এ নিয়ে অভিজ্ঞ কার্মকার সুবোধ আদিত্য বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরাও এই কাজ করে আসছেন। ওই সময় কর্মকারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রাদির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে। হয়তো এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। সারা বছর তেমন কাজ হয় না, কোরবানীর ঈদ এলেই আমাদের ভাল কাজ হয়, এবার পুরাতন কাজই বেশি। এ শিল্পে যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া যেতো, তাহলে শতবছরের এই পুরনো ঐতিহ্য আবার ঘুরে দাঁড়াতো।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে