বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

মধ্যনগরে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০ 

ধর্মপাশা-মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ১১ জুন ২০২৪, ২০:৩৩
প্রতিকী ছবি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া ও পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিন ইউনিয়েনর দাতিয়াপাড়া বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই দাতিয়াপাড়া বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিম আহমুদ বাদি হয়ে সাইদুর রহমান ও তার ছেলে আরিফুর রহমান জিনুকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ আরো ১৫- ১৬ অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

গত ৫ জুন চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত ওই প্রার্থীর নাম সাইদুর রহমান (কাপ -পিরিচ) তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ভুইয়া (মোটরসাইকেল প্রতীক)।প্রতীক) মধ্যনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন।

মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পরেন দিন শুক্রবার বিকালে বিজয়ী প্রার্থীর আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়ার সমর্থক সমশের আলীর দাতিয়াপাড়া বাজারে আসেন এ সময় পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমানের সমর্থক নুরু মিয়া আসেন এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কথার কাটাকাটি হয় পরে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, পরাজিত প্রার্থী সুইদুর রহমানের নেতৃত্বে বাড়ি থেকে রামদা—কিরিচসহ লাঠিসোটা নিয়ে তিনিসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বাজারে এসে আমার ভাতিজা বাছেত ভুঁইয়ার (২৯) ওপর সাইদুর নিজে হামলা করে আমার ভাতিজাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্য রামদা দিয়ে কোপ দেয় এতে বাছেদের নাক কেটে যায়।

এবং সুইদুর রহমান আমার চাচা নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়ার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় । তিনি আরো বলেন, সাইদুর রহমান একজন জলদস্য ও ভূমিদস্য এবং চোরাকারবারীদের গটপাদার হিসেবে এলাকায় পরিচিত রয়েছে।

তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সাইদুর রহমানের নামে মধ্যনগর থানায় ৬ মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহসান বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়ার ভাতিজা সাবেক চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের নেতৃত্বে আমি ও আমার ছেলেসহ সমর্থকদের উপর হামলা করে। তরে করে আমিসহ প্রায় ৭ জন আহত হয়েছি।

বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমান বাড়ি থেকে লাঠিসোটা নিয়ে তিনিসহ তার লোকজন রামদা—কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বাজারে এসে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালান।

এতে আমার নাতি বাছেত ভূঁইয়া ও আমার সমর্থক আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এবং বিভিন্নভাবে আমি ও আমার ভাই অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ওসি মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, বলেন, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথার কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষেই কয়েকজন আহত হয়েছে। আমজিম মাহমুদ বাদি হয়ে থানায় একটি মামালা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে দাতিয়াপাড়া বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তবে পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমানের পক্ষথেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে