logo
রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

নিত্যপণ্যের বাজার কোনোভাবেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। একেক সময় একেক অজুহাত তুলে বিক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আসন্ন রমজানে আগের মতো দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ও ভেজালরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সুপারিশ করেছে কমিটি। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাজারকেন্দ্রিক অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।

আমরা প্রতিবারই লক্ষ্য করি, পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়, চোখে পড়ার মতো কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু ইতিবাচক কোনো ফল পরিলক্ষিত হয় না। রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে এ দেশের অতিমুনাফালোভী অসৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। প্রতি রমজানেই এই দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করি। এটা সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং বাজার সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল অংশ। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের অজুহাতের শেষ নেই। তারা এক সময় একেক অজুহাত দাঁড় করান। তারা খাদ্যে ভেজালও দেন। এই চিত্র বদলানো কঠিন।

আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এরা জনগণের স্বার্থের দিকে কখনোই নজর দেন না। এরা বাজারসন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে দ্রম্নত ধনী হওয়া যায় সেটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। বাজারে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের অসহায় জনগণকে জিম্মি করে তারা পকেট কাটবেন এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর আগে তারা চাল, চিনি ও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলেন। লবণের ক্ষেত্রেও চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। ওই সময়ে ৪০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা কেজিতে উঠেছিল। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। পাঁচ মাস পর ভারত থেকে পেঁয়াজ এলো দেশে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এভাবে পেঁয়াজ আসা অব্যাহত থাকবে। উলেস্নখ্য, উৎপাদন-সংকটে পড়ে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ভারত। আমরা আশা করছি, দ্রম্নত দাম কমে যাবে এবং পেঁয়াজ নিয়ে অতীতের মতো ব্যবসায়ীরা আর কারসাজি করবেন না। বর্তমানে বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা।

বাজার নিয়ে অতীতে অনেক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। বিক্রেতাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে, ততদিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে। কেবল রমজানে নয়, সারা বছর বাজার মনিটরিং করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর কঠোর উদ্যোগই কেবল পারে জনগণকে হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে