logo
সোমবার ২০ মে, ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল   ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০  

সেই কৃষকের ধান কেটে দিলেন শিক্ষার্থীরা

সেই কৃষকের ধান কেটে দিলেন শিক্ষার্থীরা
বুধবার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামে গিয়ে মালেকের জমির ধান কাটার কাজে অংশ নেন ১৭ জন শিক্ষার্থী -যাযাদি
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পাকা ধানে আগুন দেয়া সেই আব্দুল মালেক সিকদারের জমির ধান কেটে দিয়েছেন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামে গিয়ে মালেকের জমির ধান কাটার কাজে অংশ নেন ১৭ জন শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি শ্রমিক সংকট ও বেশি মজুরি আর ধানের মূল্য কম থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলার বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক ধানখেতে আগুন ধরিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানান। এ সংবাদটি বিভিন্ন অনলাইন, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়। এর?ই পরিপ্রে?ক্ষি?তে সেই কৃষক মা?লে?কের জ?মির ধান কে?টে দেয়ার উদ্যোগ নেন বি?ভিন্ন প্রতিষ্ঠা?নের শিক্ষার্থীরা।

ধান কাট?তে আসা শিক্ষার্থী কৃষ্ণ জানান, টাঙ্গাই?লে শ্র?মি?কের সংক?টের পাশাপা?শি বে?শি মজুরি হওয়ায় কৃষকরা তা?দের ক্ষে?তের ধান কাট?তে পার?ছেন না। কৃষ?কের এই কষ্টের দি?নে তা?কে সহ?যো?গিতা কর?তে তারা সবাই তার ক্ষে?তের ধান কাটায় সহযোগিতা করছেন। বাজা?রে শ্র?মিকের মজুরি অ?নেক বে?শি তাই তারা স্বেচ্ছায় তার ক্ষেতের ধান কাট?তে এসেছেন।

ধান কাটতে আসা শিক্ষার্থীরা সরকারি সা'দত কলেজ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ, লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়া করেন।

লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাফি জানান, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং পরে গণমাধ্যমে ধান খেতে কৃষকের আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবরটি জানতে পারেন। তাই মানবিক কারণে তাঁরা মালেক সিকদারের খেতের ধান কেটে দিতে এসেছেন।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, 'কৃষকের পাশে এসে কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।'

শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অভিভুত কৃষক আব্দুল মা?লেক সিকদার ব?লেন, ক্ষো?ভে-দুঃখে ধান ক্ষে?তে আগুন দি?য়ে?ছিলেন অ?ধিক শ্র?মিক মজুরি, শ্র?মিক সংকট ও ধা?নের দাম কম থাকার প্রতিবাদে। তবে এ সংবাদে বুধবার দুপুরে বি?ভিন্ন শিক্ষা প্র?তিষ্ঠা?নের শিক্ষার্থীরা তার ক্ষেতের ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নেয়ায় তিনি অভিভুত হয়েছেন। এই ধান কাটায় তার শ্রমিক মজুরি বাবদ চার হাজার ২০০টাকা, তিন বেলা খাওয়াসহ থাকার ব্যবস্থা করা থেকে মুক্ত হলেন তিনি। এ সময় ওই শিক্ষার্থীরা তার ২৮শতাংশ জমির ধান কেটেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পত্র-পত্রিকায় সংবাদটি দেখে 'স্বপ্ন' নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তার জমির সকল ধান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং যোগাযোগ করলেও তাদের ধার্যকৃত সাড়ে ৬'শ টাকা দরে ধান বিক্রি সম্ভব হচ্ছেনা।

\হ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে