​ফেনীর সোনাগাজীর ঐতিহ্য পানের বরজ প্রশিক্ষণ ও সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

​ফেনীর সোনাগাজীর ঐতিহ্য পানের বরজ প্রশিক্ষণ ও সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে কমবেশি পানের চাষ হয়। পান বহুল প্রচলিত একটি মুখরোচক খাবার। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ও চর মজলিশ পুরে স্বল্প পরিসরে পান চাষ হয় । এ সব এলাকার মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় শত বছর আগেও এখানে ব্যাপক হারে পান চাষ হতো। উপজেলায় বর্তমানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৭৫ একর জমিতে চাষ হচ্ছে পান। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ও প্রশিক্ষণ এবং সহায়তার অভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পান চাষিরা। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর পান চাষের ঐতিহ্য ।

জানা যায়, এখানকার উৎপাদিত পান ফেনীর চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে সোনাগাজী বাজার, কুঠিরহাট, দাসের হাট, কারামতিয়া ও কাজিরহাট থেকে সপ্তাহে দুই দিন পান সংগ্রহ করে নিয়ে যেত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে । সপ্তাহের দুদিন পাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী পান বাজারজাত করতেন চাষিরা।

উত্তর চর সাহাভিকারী গ্রামের পানচাষি শেখ আলী আহম্মদ জানান, নিজস্ব ৭০ শতক জমিতে পান করেন। উৎপাদন বাড়ানো, রোগব্যাধি নির্মূল, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নতুন করে পান চাষে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। উত্পাদানের খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরানেরা ও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পান চাষ থেকে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর এ পান শিল্প।

চর সাহাভিকারী গ্রামের যজ্ঞেশ্বর মজুমদার জানান,পারিবারিক ভাবে তারা ৫০বছরের বেশি সময় ধরে পান চাষ করছেন। তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস পানের বরজ। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পান চাষ কমিয়ে সেই জমিতে অন্যান্য সবজি চাষ করেন। কোন প্রকার সহযোগীতা বা প্রশিক্ষণ দেয়না কৃষি দপ্তর। পান চাষি রতন দাস বলেন, পরিবারের ঐতিহ্য হিসেবে পুর্ব পুরুষদের ন্যায় আমরা মাত্র ত্রিশ শতক জমিতে পান চাষ অব্যাহত রেখেছি । আগে দেড়-দুই একর জমিতে পান চাষ করতাম । সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আবারো চাষাবাদ বৃদ্ধির ইচ্ছা আছে।

কৃষক শ্রীনাথ মজুমদার বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য দীর্ঘদিন যাবত ৫০ শতক জমিতে পান চাষ করি। বর্ষা মৌসমে এখানে উৎপাদিত পান প্রতি বিয়া ৭২পিছ, ৪৫-৫০ টাকা আর শীতের মৌসমে ৭০-৮০টাকায় বিক্রি হয়। উৎপাদন ব্যায় অনুয়ায়ী তেমন লাভ হয়না । পরিবারের বিকল্প উপার্জন না থাকায় চরম অর্থকষ্টে আছেন বলে জানান পান চাষি শ্রীনাথ।

চর দরবেশ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টো জানান, পান চাষীদের জন্য কৃষি দপ্তর বা ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ কোন বরাদ্দ নেই । তবে পরিষদের পক্ষ থেকে সব সময় চাষীদের সহযোগীতা করা হয়। অত্র ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি পান চাষ যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, সোনাগাজীর চর দরবেশ ও চর মজলিশপুরে ৭০জন কৃষক প্রায় ৭৫ একর জমিতে পান চাষ করছেন। তিন চার বছর আগেও এর পরিমান দ্বিগুন ছিল। পান চাষীদের সরকারি ভাবে কোনো প্রশিক্ষণের বা প্রণোদনা দেয়ার মত বরাদ্দ নেই। তবে চাষিরা যদি কোনো পরামর্শ চায় তখন আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। পান চাষিরা যদি প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেন তাহলে কৃষি দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে আশার বানি শোনালেন।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে