শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

নিজেদের ফাঁদে ভারতের সর্বনাশ

যাযাদি ডেস্ক
  ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৪১
নিজেদের ফাঁদে ভারতের সর্বনাশ

বল বদল, পিচ বদল, টস বিতর্ক- এবারের বিশ্বকাপে ভারতের দুর্দম্য যাত্রায় অনেকেই নানা তত্ত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করেছেন। এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত ৬ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর কেউ কেউ আবার দলটির নিজেদের মতো পিচ তৈরির কৌশলের কাছেই তাদেরই ‘ধরা খাওয়ার’ কথা বলছেন!

ইংল্যান্ডের দুই সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইকেল ভন এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলেছেন, পিচ নিয়ে ভারতের কৌশল তাদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। এবার খোদ ভারতেরই সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া বলেছেন, পিচের বিষয়ে ভারত নিজেদের জালে নিজেরাই ফেঁসে গেছে!

আকাশ চোপড়া কেন এমন কথা বলছেন, সেই ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আকাশ চোপড়া বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ভারত শুরুতেই একটি ব্যাপার মিস করেছে। ভারত হয়তো যে ধরনের পিচে খেলতে চেয়েছে, সেটা তারা নিজেরাই নির্বাচন করেছে। তারা হয়তো কালো মাটির পিচে খেলতে চেয়েছে, যেখানে স্পিনের প্রচুর সাহায্য থাকবে। যা হোক, তাদের শুরুটা হয়তো কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিল।’

এমন উইকেটে টস খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের পক্ষে গেছে। যেখানে তিনি টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন। তার দল ভারতকে ২৪০ রানে আটকেও দিতে পেরেছে। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪২ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জিতে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

আকাশ চোপড়া তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোন ধরনের উইকেটে খেলব, এটা ভাবাই উচিত হয়নি আমাদের। যে ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে, আগে ব্যাটিং করলে সেটা আপনাকে স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে দেবে না। আপনি যদি এভাবে ভাবেন যে শুষ্ক কালো-মাটির পিচ বেছে নেবেন, তাহলে (আগে ব্যাট করলে) আপনি নিজের জালেই ফেঁসে গেলেন।’

ভারত দলকে এই দোষ দেওয়া চোপড়া অবশ্য অস্ট্রেলিয়া দলের ভালো খেলার প্রশংসাও করেছেন, ‘শেষ লড়াইয়ে অবশ্য দুটি বিষয় থাকে। প্রথমত, যে দল কম ভুল করবে, তারা নিজেদের ভালো অবস্থানে দেখতে পাবে। তারাই চাপ সামলাতে পারবে। এ দুটি বিষয় সামলাতে পারলে কেউ আপনার জয় আটকাতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়া সেটাই দেখিয়েছে।’

এদিকে, কী এমন কারণ ছিল, যার ফলে পুরো বিশ্বকাপে দাপট দেখানো ভারতের ফাইনালে এসে এমন করুণ পরিস্থিতিতে পড়তে হলো? দেখে নেওয়া যাক, সে কারণগুলো কী কী-

টসভাগ্যের কাছে অসহায় : ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পর কুয়াশা পড়তে পারে। যে কারণে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিশির কমানোর জন্য স্প্রে ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। টসে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা হেরে যাওয়ার কারণে তিনি পছন্দমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। সন্ধ্যার পর থেকে শিশির পড়ার কারণে শেষমেষ সুবিধা নিল অস্ট্রেলিয়াই। ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট শুকনো থাকার কারণে ব্যাটে-বলে ভালো সংযোগ করতে পারছিলেন না ব্যাটাররা; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সময় সে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেল।

কেউই স্থিতিশীল ব্যাটিং করতে পারেননি : পরিকল্পনা অনুযায়ী আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করছিলেন রোহিত শর্মা; কিন্তু যখন উইকেট পড়তে শুরু করেছিল তখন ভারতীয় ব্যাটারদের সংযত হওয়ার দরকার ছিল। অথচ, তারা সেটা পারেননি। ফলে বিরতি দিয়ে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। অবশেষে ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত।

ফিনিশাররাও ব্যর্থ : দলকে নাজুক অবস্থায় পেয়ে কিছুই করতে পারেননি ফিনিশাররা। শেষদিকে সূর্য কুমার দলের হাল ধরতে পারেননি। ওয়ানডেতে নিজের অদক্ষতার প্রমাণ আরও একবার দিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। হাসেনি রবিন্দ্র জাদেজার ব্যাটও। জাদেজা করলেন ৯ রান। সূর্য কুমার আউট হলেন ১৮ রানে। দলকে লড়াকু পুঁজিও এনে দিতে ব্যর্থ হলেন তারা।

অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত ফিল্ডিং : ভারতের পুরো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং ছিল চোখে পড়ার মতো। অসাধারণ ফিল্ডিং করেছেন অসিরা। অনেকগুলো নিশ্চিত বাউন্ডারি ঠেকিয়ে দিয়েছেন তারা। রোহিতের আকাশে তোলা বলকে উল্টোদিকে দৌড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ বানিয়েছেন ট্রাভিস হেড। এই ক্যাচটিই হয়তো অজিদের ম্যাচ জয়ের বড় কারণ। ভারতের বাজে ফিল্ডিং : এ ক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারবেন না ভারতের উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। সহজ বলও তিনি গ্লাভসে পুরতে পারেননি। তার পায়ের ফাঁক দিয়ে বেশ কয়েকবার থার্ডম্যান অঞ্চলে বল চলে গিয়েছিল। সে সুযোগে সিংগেল রান কুড়িয়ে নিয়েছেন অসি ব্যাটাররা। এমনকি রাহুলের এমন বাজে কিপিংয়ের কারণে বাউন্ডারিও পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

অসিদের উপর শুরুর চাপ বজায় রাখতে ব্যর্থ : ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সাজঘরে ফিরেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ ও স্টিভ স্মিথ। কিন্তু অসিদের উপর সেই চাপ ম্যাচের বাকিটা সময় ধরে রাখতে পারেনি ভারত। ১৯২ রানের ম্যাচজয়ী জুটি করে ফেলেন ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেন। জয়ের মাত্র ২ রান বাকি থাকতে আউট হন হেড। ফলে ম্যাচটি ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়ারই হয়ে গিয়েছিল।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে