তবুও আশাবাদী ট্রাম্প

করোনার নতুন কেন্দ্র হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র :ডবিস্নউএইচও

ম ইস্টারের আগেই করোনামুক্ত হবে বলে আশা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ম দেশটিতে মৃত বেড়ে ৮০০ আক্রান্ত ৫৫ হাজার ম বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার সতর্কবার্তা
করোনার নতুন কেন্দ্র হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র :ডবিস্নউএইচও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস মহামারি ছড়ানোর নতুন বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। তবে ইস্টারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যদিও ভাইরাসটি 'বুলেট ট্রেনের' চেয়ে দ্রম্নত গতিতে ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন

ডবিস্নউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস মঙ্গলবার বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক বেড়েছে।' যুক্তরাষ্ট্র ভাইরাসের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যে হারে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে তাতে এই সম্ভাবনা জোরালো।'

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়াল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনের মৃতু্য হয়েছে। যেখানে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং মৃতু্যর সংখ্যা ১৯ হাজারের কাছে পৌঁছেছে। মঙ্গলবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্তের ৮৫ শতাংশই ইউরোপ ও আমেরিকায়, যার মধ্যে ৪০ শতাংশই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, ইস্টারের আগেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল হবেন বলে তিনি আশা করেন। যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করতে আগামী মাসের প্রথম দিকের সময়টাকে 'একটি সুন্দর সময়রেখা' হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র মহামারিটির নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করার পর তিনি এ আশাবাদী সুর শোনান।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'আসছে ১২ এপ্রিল ইস্টারের আগে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে তার আশা।' পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি 'টানেলের শেষে আলোর বিন্দু দেখতে শুরু করেছেন'। তবে 'নিখাদ তথ্য ও ডেটার ভিত্তিতেই' যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে সংক্রামক রোগ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে একাধিক টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. অ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, নিউইয়র্ক শহরের মতো জায়গায় যা চলছে তা দেখার পর বিষয়টিকে ছোট করে প্রকাশের সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার ভোর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ হাজারের বেশি নতুন করোনভাইরাস আক্রান্তের মধ্যে অর্ধেকই নিউইয়র্কের। হোয়াইট হাউস করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের ডা. ডেবরাহ বার্কস বলেন, 'নিউইয়র্ক সিটির মহানগর এলাকা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আক্রান্তের ৮০ শতাংশের উৎস।' এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়া যে কাউকে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কের ডেমক্রেটদলীয় গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'সংক্রমণের পূর্বাভাস দাতা বিশেষজ্ঞরা তাকে বলেছিলেন, সংক্রমণের গতি বিবেচনায় তারা এতদিন নিউইয়র্কের পথে মালবাহী ট্রেন আসতে দেখছিলেন, যেটা এখন বুলেট ট্রেনে পরিণত হযেছে।'

তিনি বলেন, 'কয়লা খনির ক্যানারি হলো নিউইয়র্ক, এখানে দ্রম্নত সংক্রমণ ঘটছে। নিউইয়র্কে যা ঘটছে তা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ইলিনয়দের ক্ষেত্রে ঘটবে, সময়ের অপেক্ষা মাত্র।' কেন্দ্র থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ না করলে শিগগিরই নিউইয়র্কের হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে সতর্ক করেন গভর্নর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে