বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

একাদশ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

মো. শাহিনুর রহমান, প্রভাষক (আইসিটি), বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর
  ১৫ জুন ২০২৪, ০০:০০
একাদশ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তৃতীয় অধ্যায়

প্রশ্ন : কেন ঘঅঘউ ও ঘঙজ গেইটকে সর্বজনীন গেইট বলা হয়?

উত্তর : যে সকল গেইটের সাহায্যে মৌলিক গেইটসহ অন্যান্য সকল প্রকার গেইট তৈরি বা বাস্তবায়ন করা যায় সেই সব গেইটকে সর্বজনীন গেইট বলে। মৌলিক গেইট দ্বারা অন্যান্য সকল প্রকার গেইট তৈরি বা বাস্তবায়ন করা যায় সেইভাবে ঘঅঘউ ও ঘঙজ দিয়েও মৌলিক গেইটসহ অন্যান্য সকল গেইটকে প্রকাশ করা যায়। এই জন্য ঘঅঘউ ও ঘঙজ-কে সর্বজনীন (টহরাবৎংধষ) গেইট বলা হয়।

প্রশ্ন : কি-বোর্ড থেকে ইনপুট দেয়ার ক্ষেত্রে কোন সার্কিটটি ব্যবহৃত হয়?

উত্তর : কি-বোর্ড থেকে ইনপুট দেওয়ার জন্য যে সার্কিট ব্যবহৃত হয় তা হলো এনকোডার। যে ডিজিটাল বর্তনীর মাধ্যমে মানুষের বোধগম্য ভাষাকে কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় রূপান্তরিত করা হয় অর্থাৎ আনকোডেড ডেটাকে কোডেড ডেটায় পরিণত করা হয় তাকে এনকোডার বলে।

প্রশ্ন : অ + ই কোন গেটকে সমর্থন করে?

উত্তর : অ + ই ঙজ গেটকে সমর্থন করে। যে লজিক গেটে দুই বা দুইয়ের বেশি ইনপুট থাকে এবং যৌক্তিক যোগের মাধ্যমে একটি মাত্র আউটপুট পাওয়া যায় তাকে ঙজ গেট বলে। ঙজ গেটে সকল ইনপুট ০ হলে আউটপুট ০ হয় এবং যে কোনো একটি ইনপুট ১ হলে আউটপুট ১ হয়। ঙজ গেট যৌক্তিক যোগের প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রশ্ন : বুলিয়ান অ্যালজেবরায় ধনাত্মক ও ঋণাত্মক যুক্তি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যে যুক্তি পদ্ধতিতে +৫ ভোল্টকে যৌক্তিক ১ এবং ০ ভোল্টকে ০ ধরা হয় তাকে ধনাত্মক যুক্তি পদ্ধতি বলা হয়। অপরপক্ষে যে যুক্তি পদ্ধতিতে ৫ ভোল্টকে যৌক্তিক ১ এবং ০ ভোল্টকে ০ ধরা হয় তাকে ঋণাত্মক যুক্তি পদ্ধতি বলা হয়।

প্রশ্ন : মানুষের ভাষাকে যান্ত্রিক ভাষায় রূপান্তরের সার্কিটটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মানুষের ভাষাকে যান্ত্রিক ভাষায় রূপান্তরের সার্কিটটি হলো এনকোডার। যে ডিজিটাল বর্তনীর মাধ্যমে মানুষের বোধগম্য ভাষাকে কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় রূপান্তরিত করা হয় তাকে এনকোডার বলে। এনকোডারের সাহায্যে যে কোনো আলফানিউমেরিক বর্ণকে অঝঈওও, ঊইঈউওঈ ইত্যাদি কোডে পরিণত করা যায়। সেজন্য ইনপুট ব্যবস্থায় কিবোর্ডের সঙ্গে এনকোডার যুক্ত থাকে। এনকোডার এমন একটি সমবায় সার্কিট যার দ্বারা সর্বাধিক ২হটি ইনপুট থেকে হ টি আউটপুট লাইনে ০ বা ১ আউটপুট পাওয়া যায়। যে কোনো মুহূর্তে একটি মাত্র ইনপুট ১ ও বাকি সব ইনপুট ০ থাকে। কখন কোন আউটপুট লাইনে ১ পাওয়া যাবে তা নির্ভর করে ইনপুটগুলোর মানের ওপর।

প্রশ্ন : বিয়োগের কাজ যোগের মাধ্যমে সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কোনো বাইনারি সংখ্যার ১-এর পরিপূরকের সাথে ১ যোগ করে যে মান পাওয়া যায় তাকে ২-এর পরিপূরক বলে। ২-এর পরিপূরক হলো কোনো সংখ্যার ঋণাত্মক মানের বাইনারি মান। কোনো সংখ্যাকে ঋণাত্মক করতে পারলে উক্ত ঋণাত্মক সংখ্যাকে যোগ করলে আসলে তা বিয়োগের কাজ হয়। সুতরাং ২-এর পরিপূরক ব্যবহার করে যোগের মাধ্যমে বিয়োগের কাজ করা যায়।

প্রশ্ন : অ্যাসকি কোডের কেন উদ্ভব হয়?

উত্তর : কম্পিউটার আবিষ্কারের প্রাথমিক যুগে কম্পিউটার নির্মাতার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সুবিধামতো অঙ্ক, অক্ষর এবং বিভিন্ন চিহ্নাদি নির্দিষ্ট করার জন্য বিভিন্ন বাইনারি বিট প্যাটার্ন ব্যবহার করতেন। এর ফলে কোনো কোম্পানির সিপিইউ-এর সাথে অন্য কোনো কোম্পানির তৈরি ইনপুট

যন্ত্র বা আউটপুট যন্ত্র লাগালে তা সঠিকভাবে কাজ করত না। এ অসুবিধা দূর করার জন্য আসকি কোড ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন : কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগন্যাল উপযোগী কেন?

উত্তর : কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগন্যাল উপযোগী, কারণ ডিজিটাল সিগন্যালে ব্যবহার হওয়া অঙ্কগুলো সহজেই ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়। কম্পিউটার ডিজাইনে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার হয়। ডিজিটাল যন্ত্রাংশ বাইনারি মোডে কাজ করে। ডিজিটাল সিগন্যালে একটি সুইচ অন-অফ হতে পারে অথবা সিগন্যাল উপস্থিত অনুপস্থিত থাকতে পারে। এগুলোর সাথে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির মিল রয়েছে। তাই কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগন্যাল উপযোগী।

প্রশ্ন : 'পৃথিবীর সকল ভাষাকে কম্পিউটারের জন্য বিশেষ কোড সৃষ্টি করা হয়েছে'- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বিশ্বের সকল ভাষাকে কম্পিউটারে কোডভুক্ত করার জন্য অ্যাপল কর্পোরেশন ও জেরক্স কর্পোরেশন সম্মিলিতভাবে একটি কোড পদ্ধতি তৈরি করেছে যাকে ইউনিকোড বলা হয়। ইউনিকোড হচ্ছে ১৬ বিটের কোড। বিশ্বের সকল ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণ, সংখ্যা ও চিহ্নগুলোকে কোড হিসেবে কম্পিউটারের অভ্যন্তরে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য বর্তমানে ইউনিকোড ব্যবহৃত হয়। ইউনিকোডের মাধ্যমে ২১৬ =৬৫, ৫৩৬টি অদ্বিতীয় চিহ্নকে নির্দিষ্ট করা যায়।

প্রশ্ন : সত্যক সারণি ব্যবহার করে লজিক বর্তনী আঁকা সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বুলিয় চলকের মানের সম্ভাব্য সব বিন্যাসের জন্য বুলিয় ফাংশনের যে মান হয় তাকে সত্যক সারণি বলে। সাধারণত একটি সার্কিটের আউটপুট কী ধরনের হবে তা বুলিয় চলক ব্যবহার করে সত্যক সারণি তৈরি করা হয়। তারপর সত্যক সারণি থেকে বুলিয়ান রাশি বের করা হয় এবং ইলেকট্রনিক সার্কিট তৈরি করা হয়। সুতরাং, সত্যক সারণি ব্যবহার করে লজিক বর্তনী আঁকা সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে