ঈদে ছুটি বাড়ানোর দাবি

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ পুলিশের গুলি, আহত ২৪

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ পুলিশের গুলি, আহত ২৪

ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গী ও কালিয়াকৈরের দুটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া আরও শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মিজানুর রহমান (২৪), হাসান মিয়া (২৬), রুবেল মিয়া (২২), জাহিদ হোসেন (২৫), রনি ইসলাম (২৪), মামুন (২৬), সোহেল (২২), রুবেল হোসেন (২৪), ইমরান হোসেন (২৪),

রাজীবুল ইসলাম (২৬), মামুন মিয়া (২৭), রবি (২১), লতিফ (১৯), রনি (২২), এহসানুল হক (৩৫), রাজিবুল (২৬), কলি বেগম (২৪), নিজাম উদ্দিন (৩০), সমলা (২৫), ইয়াসিন (২০), হাসিনা (৪০), সাব্বির (২২), সাবিনা (২৫), রিনা বেগম (২০)। গুরুতর আহত ১৩ জন শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের টঙ্গীর শহীদ আহসানউলস্নাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পায়ে গুলিবিদ্ধ রনি ইসলাম বলেন, ঈদে বাড়তি ছুটির দাবি নিয়ে তারা কাজ বন্ধ রেখে টঙ্গী মিলগেটে জমায়েত হন। এ সময় আচমকা পুলিশ এসে শ্রমিকদের পেটাতে শুরু করে। একজনের মাথাও ফাটিয়ে ফেলে। কেন বিনা কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হলো জানতে চাইলে, পুলিশ আরও মারমুখী হয়ে ওঠে, লাঠিচার্জ করে ও গুলি ছোড়ে। একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে আহত অপর দুই শ্রমিক সোহেল ও রুবেলের কাছ থেকে।

সোহেল বলেন, ঈদে বাড়তি ছুটির আশায় তারা তিনটি বন্ধের দিনে কাজ করেছেন। বাড়তি চার দিনের ছুটি চাইছিলেন শ্রমিকেরা। মালিকপক্ষ তাদের দাবি নাকচ করে দেয়। ঈদে তিন দিনই ছুটি থাকবে বলে ঘোষণা দেয় তারা। এতে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নামেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ (জোন-২)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন জানান, টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় হা-মীম গ্রম্নপের পোশাক শ্রমিকরা সোমবার সকালে ১০ দিনের ছুটি দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুরের দিকে তারা কারখানায় ভাঙচুর করে পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরাতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং প্রায় আধাঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, ওই সংঘর্ষের সময় শ্রমিকরা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়লে আমাদের কয়েক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পরে আমাদের জীবন রক্ষার্থে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করেছে।

শহীদ আহসানউলস্নাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. পারভেজ হোসাইন জানান, রাবার বুলেটে আহত ২০ জন শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত একজন পুলিশ সদস্যকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হা-মীম গ্রম্নপের টঙ্গী জোনের এজিএম মিজানুর রহমান বলেন, 'শ্রমিকরা দাবি তোলার পর রোববারই সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারা ১০ দিন দাবি করে সোমবার সকালে ভাঙচুর করেছে। কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরা, দরজা-জানালার কাচ, কারখানার গাড়িসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মহাসড়কে অবরোধ করে তারা।'

অপরদিকে কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার স্টার লিঙ্ক ডিজাইন লিমিটেড নামের কারখানা শ্রমিক আসমা খাতুন জানান, ওই কারখানার শ্রমিকরা সোমবার সকালে কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারে তাদের ঈদের ছুটি তিন দিন দেওয়া হয়েছে। খবরটি কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে শিল্পপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের পাশে নিয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি তাদের কমপক্ষে ১২ দিনের ছুটি দিতে হবে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ পরিদর্শক মো. কমর উদ্দিন বলেন, কারখানার শ্রমিকরা ১২ দিনের ছুটি চাইলেও মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করলে তারা আন্দোলন ত্যাগ করেন।

এদিকে টঙ্গীতে হা-মীম গ্রম্নপের শ্রমিকের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনের সভাপতি মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে বলেন, ঈদের ছুটি নিয়ে মালিক পক্ষের সুযোগসন্ধানী ভূমিকা ও অযৌক্তিক জেদাজেদির ফলে শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। কথায় কথায় শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর উপযুক্ত জবাব না দেওয়ার ফলেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো একের পর এক ঘটনায় এমন ঔদ্ধত্য দেখিয়ে যাচ্ছে।

নেতারা শ্রমিকদের ওপর গুলির ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ঈদের পাওনা ছুটি কর্তন বন্ধের দাবি জানান।

আন্দোলনের পর ১০ দিন ছুটি পেলেন স্ট্যান্ডার্ডের শ্রমিকরা

রাজতানীর কালশী সড়কে ঈদে ১০ দিনের ছুটির দাবিতে আন্দোলনের পর শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড গ্রম্নপ ২২তলা গার্মেন্টের মালিক পক্ষ। পলস্নবী থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় গার্মেন্ট মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টের সামনে মালিকপক্ষ ছুটির দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, আমরা ১০ দিনের ছুটি চেয়েছিলাম। গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ ৯ দিনের ছুটি দিয়েছে। ছুটির নবম দিনের পরের দিন শুক্রবার হবে, সব মিলিয়ে আমাদের ছুটি ১০ দিন পেলাম।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে