বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নীলফামারীতে ভন্ড কবিরাজের অপচিকিৎসায় কিশোরের মৃতু্য

ম স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
চিকিৎসার নামে ভন্ড কবিরাজের শারীরিক নির্যাতনে সোহেল রানা (১৬) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃতু্য হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের সরঞ্জাবাড়ি গ্রামে। রানা ওই গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলো আনোয়ার হোসেন (৪৫), শফিকুল ইসলাম (৫০) ও মোকাব্বর হোসেন (৫৫)। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রানা দুই বছর আগে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়। ডাক্তারি চিকিৎসার পর সে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার একটি পা বাঁকা থেকে যায়। এ বাঁকা পা নিয়ে সে চলাফেরা করত। নিহতের মা খালেদা বেগম জানতে পারেন মাগুরা শাহপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র মোকাব্বর হোসেন অনেক পক্ষাঘাত রোগীকে সুস্থ করেছেন। তখন তিনি কবিরাজ মোকাব্বরকে ডেকে পাঠান। সে অনুযায়ী কবিরাজ তার দুই সহযোগী একই গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মহির উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলামকে নিয়ে মঙ্গলবার তার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে শুরু হয় চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন। খালেদা বেগম আরও জানান, কবিরাজ মোকাব্বর হোসেন প্রথমে বিভিন্ন গাছের লতাপাতা গুঁড়ো করে তা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেই পাতার রস এবং ভাজা তেল মিশিয়ে শরীরে মালিশ করতে থাকেন। শরীরে মালিশ শেষে কবিরাজের দুই সহযোগী দুই পায়ে ইট বেঁধে সেই ইটের উপর পা দিয়ে চাপ দিলে তার পা ভেঙে যায়। পা ভেঙে গেলে সেই ভাঙা পায়ে গরম বালুর শেক দেওয়া হয়। এ সময় তার ছেলে পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়নি। তাদের এ সমস্ত চিকিৎসা প্রদানে বাধা দিলে তারা তাকে নানা ভয়ভীতি দেখায়। টানা তিনদিন এরকম অপচিকিৎসার পর মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে রানা। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই তিন ভন্ড কবিরাজকে আটক করা হয়। অফিসার ইনচার্জ রাজীব কুমার রায় জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনায় নিহতের বাবা কেরামত আলী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উলেস্নখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে