মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

দখল-দূষণে বিপর্যস্ত আনোয়ারার ৫ খাল!

ম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দখল-দূষণ আর খননের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ৫ খাল। একসময় উপজেলার সঙ্গে লোকজনের যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্যের একমাত্র মাধ্যম ছিল এসব খাল। এসব খালের মধ্যে সাপমারা খাল, ইছামতি খাল, শাহ মোহছেন আউলিয়া খাল, কেয়াগড় কান্দুরী খাল ইজারা বিলের সংযোগ খাল ও শ্রীমতি খাল এখন মৃতপ্রায়। প্রভাবশালীদের দখল, কারখানার বর্জ্য, খাল খনন প্রকল্প কাজে অনিয়ম ও মাছ শিকারের জন্য বাঁধ নির্মাণের কারণে খালগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে বিগত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্ষায় পানিবন্দি ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে বোরো-রবিশস্য চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছেন দখল-দূষণের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইছামতি খাল ভর্তি কচুরিপানা, সাপমারা খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে দোকান-স্থাপনা ও অন্যান্য খালগুলো মাছ শিকারের জন্য বাঁধ নির্মাণসহ পানি চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকটা শুকিয়ে গেছে। খালের পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থানে কারখানার বর্জ্য, কাঁচা বাজারের উচ্ছিষ্ট, খড়কুটার স্তূপ, পলিথিন, বাজারের বর্জ্যসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ কারণে এসব এখন মৃত খালে রূপ নিয়েছে। জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে সঙ্খ নদী পর্যন্ত বয়ে চলেছে সাপমারা খাল। এ খালের পানি দিয়ে রায়পুর, বারশত, বটতলী ও জুইদন্ডী ইউনিয়নের কৃষকদের রবিশস্য-চাষাবাদ ছাড়াও জৈদ্দার হাট, আন্নর আলী সিকদার হাট, ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজার ও জুঁইদন্ডী চৌমহনী বাজারের সব মালামাল চট্টগ্রাম শহর থেকে নৌকাযোগে আনা নেওয়া হত। বর্তমানে খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। মাছ শিকারিরা খালের মাঝে বাঁধ দিয়েছে অন্তত শতাধিক, এতে করে খালটির মুমূর্ষু অবস্থা বিরাজ করছে। অন্যদিকে প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন ইছামতি খালটি উত্তরে শিকলবাহা খাল হয়ে মিলিত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে আর দক্ষিণে সঙ্খ নদীতে। একসময় চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল এ খাল। খালের অসংখ্য শাখা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রবাহিত হয়েছে, যা থেকে বছর জুড়ে বোরো রবিশস্য চাষাবাদ চলে। এছাড়া খাল পাড়ের মানুষরা গোসল ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করত এ খালের পানি। ইছামতি খালকে কেন্দ্র করে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বছর বসে ইছমতি মেলা। কিন্তু ২০২০ সালে পাউবো খালের দক্ষিণ পাশে বরুমচড়া ভরাসঙ্খের মুখে হাইড্রোলিক বাঁধ নির্মাণ ও উত্তর পাশে ইছামতি-শিকলবাহা খালের সংযোগস্থলে স্স্নুইস গেইট নির্মাণ করলে বন্ধ হয়ে পড়ে নৌ ও খালে পানি চলাচল। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা কারখানার বর্জ্য ফেলে খালটি দখলের চেষ্টা করছে। এ কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে বোরো চাষও ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া দখল-দূষণে বৈরাগ ইউনিয়নের কাপকো হাউজিং থেকে চাতরী কেয়াগড় পর্যন্ত কান্দুরী খালটির প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় চলছে দখলের মহোৎসব। রায়পুর ইউনিয়নে পশ্চিম রায়পুর থেকে সরেঙ্গা সঙ্খ নদী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ইজারা বিলের সংযোগ খাল ও বটতলী থেকে আইরমঙ্গল হয়ে বরুমচড়া গোদারপাড় পর্যন্ত প্রবাহিত শ্রীমতি খালেরও করুণ দশা। বারখাইন ষোলকাটা এলাকার কৃষক মহিউদ্দিন বলেন, খালে পানি না থাকায় বারখাইন, পরৈকোড়া, চাতরী, বরুমচড়া ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক কয়েক বছর ধরে বোরো ও রবিশস্য চাষ করতে পারছেন না। এ বছরও শঙ্কায় আছেন। পাউবো'র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মানজুর এলাহী বলেন, 'ইছামতি খাল নিয়ে আমরা একটা ক্লোজার করছি। এই ক্লোজার নির্মাণকাজ শেষ হলে কৃষকদের পানি সংকটের সমস্যার সমাধান হবে।' খাল দখল-দূষণের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে। আনোয়ারা ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, খাল দখল ও দূষণমুক্ত করতে পাউবো ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে