মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

সত্যি হয়েছে ৫৯ বেদে পরিবারের স্বপ্ন

ঝিনাইদহের স্বপ্ননীড় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  ২৬ মে ২০২৩, ০০:০০

'পথে পথে সাপ ও বানরের খেলা দেখিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের খাবার যোগাতাম। যেখানে যেতাম সেখানে বাঁশের কঞ্চি আর পলিথিনের তৈরি ছোট্ট একটি তাঁবুতে আশ্রয় নিতাম। ঝড় বৃষ্টিতে ভিজতাম। অনেক কষ্টের জীবন ছিল। এখন নিজেদের জমি আর পাকা ঘর হয়েছে। এখন আর চিন্তা নেই। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করছি। আমাদের একটি স্থায়ী ঘরের স্বপ্ন ছিল, আজ তা সত্যি হয়েছে।' এভাবেই বলছিলেন বেদে পলস্নীর এক গৃহবধূ পুতুল। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের ঘর তাকে দেওয়া হয়।

বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় নিয়ে আসতে সরকারের উদ্যোগে ২০২২ সালের ২১ জুলাই ঝিনাইদহে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামের মাজদিয়া বাঁওড়ের ধারে বেদে সম্প্রদায়ের বসবাসের জন্য ৫৯ পরিবারের জন্য স্থায়ী ঘর ও জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দেশের ইতিহাসে বেদে সম্প্রদায়ের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় স্থায়ী পলস্নী। সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে পলস্নীটি নির্মাণ করা হয়েছে জলাধারের পাশেই। ঘরের চারপাশে কিছু খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। পলস্নীর প্রতিটি ঘরের সামনে এখন সবজি চাষ করছে তারা। সবুজ সবজি আর ফুলে ফলে ভরে উঠেছে প্রতিটি বাড়ির চারপাশ। যে সবজি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে সামান্য কিছু অর্থও আয় করছে অনেকে।

বৃহস্পতিবার সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দল স্বপ্ননীড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই বেদে পলস্নীটি পরিদর্শন করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুর রাজ্জাক সরকার ও উপসচিব রফিকুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বেদে সম্প্রদায়ের উপকারভোগী, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম, ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজীবুল ইসলাম খান, ঝিনাইদহ সদর ইউএনও সাদিয়া জেরিন, কালীগঞ্জ ইউএনও ইসরাত জাহান, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুলস্নাহ ও বারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। কথা হয় স্বপ্ননীড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বেদে সম্প্রদায়ের বিধবা কাঞ্চন বিবি'র সঙ্গে। তিনি জানান, বাঁশের ফালি, কঞ্চি আর পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট ঘরে কেটে গেছে জীবনের ৫৫ বছর। স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়ে ফুলমতিকে নিয়ে জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে পথে পথে। এখন আমার জীবনে আর কোনো দুঃখ নেই। বেদে পলস্নীর সরদার হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক পরিবার আছে ভূমিহীন। এ রকম পরিবারের জন্য সরকার পাকা ঘর দিয়েছে। এখন এসব পরিবার স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে