এমসি কলেজের ধর্ষণ মামলা

দুটি মামলার বিচার একই আদালতে চলবে না

দুটি মামলার বিচার একই আদালতে চলবে না

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা একই আদালতে চলবে না। তবে ধর্ষণ মামলাটি আদালতে চলমান থাকবে। বিবাদী পক্ষের আইনজীবীর দাখিলকৃত পিটিশনের শুনানি শেষে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী দুটি মামলার বিচারকার্য একই আদালতে চলার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করবেন বলে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের বিচারককে অবগত করেন।

এ সময় আদালত তাদেরকে বলেন, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মামলাটি আদালতে চলমান থাকবে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার ৮ আসামিকে হাজির করে পুলিশ।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, একই আদালতে দুটি অভিযোগপত্রের বিচার চলেতে পারে। আমরা এজন্য পিটিশন দাখিল করেছি। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত তা না মঞ্জুর করে ধর্ষণ মামলার বিচার আদালতে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন। এজন্য আমরা হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করে দুটি অভিযোগপত্রের বিচার একই আদালতে চলার জন্য আবেদন করব।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বাদী পক্ষ চাচ্ছেন দুটি মামলার বিচার একই আদালতে চলতে। কিন্তু এটা আদালত মানেননি। অনুমতি নেওয়ার জন্য বাদী পক্ষ হাইকোর্টে যাবেন। তবে ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ আদালতে চলবে। যার জন্য বুধবার আদালতে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

মামলার সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উলেস্নখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র?্যাব। গ্রেপ্তারের পর আটজন আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ও মাহফুজুরকে ধর্ষণে সহায়তা করতে অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি। মামলার অভিযোগপত্রে ঘটনার পর আসামিদের পালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন পর্যায় প্রত্যক্ষ করা দুজনসহ ৫১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে