সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত

জাতীয় পার্টির মাথায় হাত আওয়ামী লীগে স্বস্তি

জাতীয় পার্টির মাথায় হাত আওয়ামী লীগে স্বস্তি

গোপনে মাঠ ছিল সাজানো। জামায়াত-বিএনপির ভোটাররা হুড়মুড়িয়ে ভোট কেন্দ্রে আসার কথা ছিল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় জাপার কর্মীদের মাথায় হাত পড়ার মতো অবস্থা। তারা মনে করছে, অল্পের জন্য এমপি হতে পারলেন না আতিকুর রহমান আতিক। অন্যদিকে, হতাশ না হয়ে দ্বিগুণ শক্তি বৃদ্ধি করে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ।

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করার পর দুই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপে এমন চিত্র পাওয়া গেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পরপরই আতঙ্ক নেমে এসেছে সিলেট-৩ আসনে। বদিকোনায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর হয়েছে। অন্যদিকে, কুচাই এলাকায় নৌকার মাইকিংয়ের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মামলার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন জাপার কর্মীরা। দক্ষিণ সুরমায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি আপাতত থমথমে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন স্থগিতে দলটির উচ্চ-পর্যায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী সমাবেশ ও নির্বাচন। যা দলের জন্য সমালোচনা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিত। তাছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের মৃতু্যতে বেকায়দায় পড়েছিল আওয়ামী লীগ। জাপা, বিএনপি-জাতীয় পার্টি- তিন দলের চাপেও ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। তাই নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আওয়ামী লীগের লাভই হয়েছে বলে মনে করছে দলটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, 'হাইকোর্টের আদেশকে সম্মান জানিয়ে ইসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম। কর্মীরা দেড় মাস কষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য আরও কিছু দিন কষ্ট করতে হবে। নির্বাচন স্থগিত হওয়া মানে, নির্বাচন শেষ নয়। শত প্রতিকূলতা জয় করে বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরব।'

জাপার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় জাপার কর্মীরা মামলা-হামলার আতঙ্কে আছেন। নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা এগিয়ে এলেও তারাও এখন চলে যাচ্ছেন দৃষ্টির আড়ালে। তাদের ধারণা, আওয়ামী লীগ প্রথমে জাপার প্রার্থীকে দুর্বল মনে করে নির্বাচন সহজ মনে করেছিল। এখন পুরো পরিকল্পনা জেনে গেছে আওয়ামী লীগ। জাপা-বিএনপি-জামায়াতের প্রথম সারির নির্বাচনী এজেন্টদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেছে। যা জাপার জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে। বিএনপি-জামায়াত আবার চলে যাবে আত্মগোপনে। আবার জাপার ঘর ফাঁকা হয়ে যাবে। তাই মাথায় হাত পড়েছে নেতাকর্মীদের।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাপার প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, 'সিলেট-৩ আসনের মানুষের পাশে আমি সব সময় থাকতে চাই। ইসির নতুন তারিখ এলে সবাই আবার আমার জন্য কষ্ট করবেন। ভোট দিতে আসবেন।'

উলেস্নখ্য, করোনায় সাবেক এমপি মাহমুদ উস সামাদ-এর মৃতু্যর পর সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। ২৮ জুলাই উপনির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল ইসি। নির্বাচনের প্রচারণা করোনা উপেক্ষা করে হচ্ছিল। এমন সময় আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির করোনার কারণ দেখিয়ে ভোট স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে হাইকোর্ট আসনটির উপনির্বাচন ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন। ইসির নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ভোটার ও প্রার্থীরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে