শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন

পোস্টার টানানো নিয়ে তুলকালাম

ম রাজশাহী অফিস
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের পোস্টার টানাতে গিয়ে গ্রাম পুলিশকে (চৌকিদার) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের রোষানলে পড়ে পিটুনির শিকার হন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা। তাদের ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ গিয়ে সাতজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আইনজীবীর জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন- বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী গ্রামের নাসির উদ্দীন প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল মালেক নয়ন (৩৫), রাজশাহী নগরীর হড়গ্রাম এলাকার মৃত সাইফুদ্দিন মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সম্রাট (৩০), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আশিকুল ইসলাম নিটু (৪৫), প্রয়াত অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে অ্যাডভোকেট গোলাম আযম ফারুক (৫৩), মনিমুল হকের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩০), নগরীর লক্ষ্ণীপুর এলাকার মৃত নকির উদ্দিন শেখের ছেলে মোহাম্মাদ আলী (৫৩) ও রাজশাহী হড়গ্রাম এলাকার মন্টুর ছেলে রাফি (৩৫)। তারা সবাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামানের কর্মী। ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দিবাগত রাতে তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান আকতারের মোটর সাইকেল প্রতীকের পোস্টার টানাতে যান আবু রায়হান ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় তারা স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবালকে কটু কথা করতে থাকেন। এর কারণ জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশ আসাদুল ইসলামকে তারা মারধর করে। এ ঘটনা জানতে পেরে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে রেখে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসীর রোষানলে পড়ে পালাতে গিয়ে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে তাদের মাইক্রোবাস চাপা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোহনপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, ধুরইল এলাকায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের পোস্টার টানাতে এসে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পালাতে গিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় একজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গ্রামবাসীর রোষানাল থেকে সাতজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামানের আইনজীবী গোলাম মোস্তফার জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, আমার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবু রায়হান মাসুদসহ বেশ কিছু কর্মী দু'টি গাড়ি নিয়ে পোস্ট টানানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে পোস্টার টানাতে গ্রাম পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। পরে তার নেতৃত্বে আমার কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়। এ সময় তারা আমাদের দু'টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এর কিছুক্ষণ পরপরই সেখানে স্থানীয় এমপি উপস্থিত হয়ে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে