রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

পুলিশের নারী সদস্যরাও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন

বার্ষিক প্রশিক্ষণ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
মাঠ পর্যায়ে পুলিশি কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী পুলিশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, 'নারী পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে পাইলট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।' বুধবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত নারী পুলিশের গৌরবময় যাত্রা ও অর্জন ১৯৭৪-২০২২ শীর্ষক বার্ষিক প্রশিক্ষণ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডবিস্নউএন)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপে নারী পুলিশের সংখ্যা কয়েকটি ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৫ হাজার ৫৬১ জন হয়েছে। যা সামগ্রিক পুলিশ সদস্যের ৮.১৯%। মাঠ পর্যায়ের পুলিশি কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী পুলিশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। জেলা পুলিশ, মেট্রো পুলিশসহ বিশেষায়িত নৌ-পুলিশ, টু্যরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ এবং শিল্প পুলিশে নারী পুলিশ সদস্যের কার্যক্রমে গতি সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডবিস্নউএন) নারী পুলিশের চলার পথকে সুগম করতে যেমন পেশাগত উন্নয়নে অবদান রাখছে, তেমনি কমিউনিটির মধ্যেও জেন্ডার ভিত্তিক অপরাধ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে বলেও উলেস্নখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী আরও বলেন, সাতটি মেট্রোপুলিশসহ পার্বত্য রাঙামাটি জেলার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার সহিংসতার শিকার নারী শিশুর চিকিৎসা সহায়তা, আইনগত ব্যবস্থা, সাময়িক আশ্রয়দানসহ মনো-সামাজিক কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল সেবাদানে নিয়োজিত রয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে নারী শিশুর নিরাপত্তায় পুলিশের নারী সদস্যরা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উলেস্নখ করেন, মামলা তদন্ত, ফরেনসিক, জঙ্গি দমন, গোয়েন্দা কার্যক্রম, বিমান চালনা, ভিভিআইপি প্রটেকশন, ইমিগ্রেশন সর্বোপরি জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমাদের পুলিশের নারী সদস্যরা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসেবে সমগ্র দেশের থানাগুলোতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সহায়তা ডেস্কের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবাদানের ক্ষেত্রে অনন্য মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নারী পুলিশ পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশের অবদান সংবলিত প্রকাশনা 'পুলিশ উইমেন ইন বস্নু হেলমেট : টেল অব সাকসেস অ্যান্ড প্রাইড' এবং অ্যাডিশনাল আইজি (অবসরপ্রাপ্ত) ফাতেমা বেগমের 'আমার পুলিশ হওয়া' গ্রন্থ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বই দু'টি চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের উদ্বুদ্ধ করবে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যোগ দিলে জামিন বাতিল হবে কি না জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'এটা আদালতের বিষয়, সেটা আদালত বুঝবেন।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'সুন্দর পরিবেশের জন্যই তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি দু'টি জায়গার কথা বলেছে, সোহরাওয়ার্দী ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। তাদের দাবির প্রতি লক্ষ্য রেখেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নেই। কারণ সেখানে জাতীয় সংসদ রয়েছে।' বিএনপির আপত্তি উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে সরকার কি ১০ তারিখ অরাজকতা পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই অরাজক পরিস্থিতি যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে। ডিএমপি কমিশনারের কাছে তারা (বিএনপি) গিয়েছিলেন। তারা দু'টি জায়গা চেয়েছিল। তারা অনেক মানুষের সমাগম করবে, তাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ চেয়েছে। সব দল ও বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয়।' তিনি বলেন, 'বিএনপির কর্মসূচির কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচি এগিয়ে এনে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সব সময় বলেছি, যেকোনো কার্যক্রম আপনারা করবেন। কারণ এটা আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনোক্রমেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না।' প্রশিক্ষণ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুলস্নাহ আল মামুন বলেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়নে নারীদের সমান অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের আবশ্যকতা উপলব্ধি করেই ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথম ১৪ নারী সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে এক নবযাত্রার সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৯ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে পুলিশে নারী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে মোট পুলিশ সদস্যের শতকরা ৮ দশমিক ১৯ ভাগ।' প্রসঙ্গত, দুই দিনব্যাপী বিপিডবিস্নউএন-এর বার্ষিক প্রশিক্ষণ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, ড্রেস রুলস ও ক্যারিয়ার পস্ন্যান, সাইবার অপরাধ, কেস অ্যানালাইসিস নারীর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি, সংবেদনশীল সেবা দান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়, নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও রূপকল্প ২০৪১, নারীর ক্ষমতায়নে প্রাইভেট ও পাবলিক ওনারশিপ এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে নারী পুলিশের অবদান ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় করণীয়, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হবে। বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্কের (বিপিডবিস্নউএন) সভাপতি ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি (প্রটেকশন অ্যান্ড প্রটোকল) আমেনা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে