শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

চিতলমারীতে কবি বিজন বিশ্বাসের স্ত্রী-সন্তানের মানবেতর জীবন যাপন

চিতলমারী(বাগেরহাট) প্রতিনিধি
  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:০০

বাগেরহাট জেলা গাংচিল সাহিত্য পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রয়াত কবি ও এ্যাডঃ বিজন বিশ্বাসের অকাল মৃত্যুতে অসায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার।অর্থের অভাবে তার সন্তানদের পড়াশুনা বন্ধ হওয়ার পথে। খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি।

প্রায়াত এ কবির অঞ্জনা বিশ্বাস হতাশা ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের জানান, গত ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি সাহিত্য সম্মেলনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী বিজন বিশ্বাস। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে তিনি মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া স্বামীর ভিটেয় তাদের কোন বসবাসের ঘর নেই। অন্যের বাড়িতে রাত কাটান। সামনে দুই মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকবেন সে চিন্তায় দিশেহারা। 

এ অবস্থায় তিনি সরকার এবং বিত্তবানদের কাছে ০১৬৫০০৫৬৬০২ নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগীতা কামনা করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর এখন সংসার চালানোর কোন সংগতি নেই। স্বামীর মৃত্যুর সময় তার মানিব্যাগে মাত্র তিন হাজার টাকা রেখে গেছেন।এছাড়া কোন অর্থ জমা রেখে যাননি। তার দুটি মেয়ের পড়াশানার খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বড় মেয়ে বৃষ্টি বিশ্বাস খুলনার একটি কলেজে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়াশুনা করছে।এছাড়া ছোট মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস ৪র্থ শ্রেণীতে পড়াশুনা করছেন। স্বামী বিজন বিশ্বাস সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি বাগেরহাট জেলা সদরে আইনজীবি হিসাবে কাজ করতেন। এতে যেটা রোজগার হত সেটা দিয়ে সংসার চালাতেন। তারা জেলা শহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। 

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হিমাংশু মণ্ডল (ঝড়ু) জানান, বিজন বিশ্বাস একজন ভালো কবি ছিলেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির কথা উঠে এসছে তার লেখনীতে।  তার মৃত্যুতুতে স্ত্রী-সন্তানরা খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।  এই মুহূর্তে তার স্ত্রী-সন্তানদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।
   
এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,ওই পরিবারটি তার কাছে একটি ঘর ও সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। অসহায় ওই পরিবারের সাহায্যের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখা হচ্ছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে