বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

রাজনগরে কুপিয়ে ২ জনকে হত্যা ১৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩১

মৌলভীবাজারের রাজনগরে জমি দখল করে বৃক্ষ রোপণ করাকে কেন্দ্র করে আপন ২ ভাইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বোন সুলতানা বেগম। এ হত্যা মামলায় উপজেলার তুলাপুর ও সুনামপুর গ্রামের ১৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।

তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় বার বার যোগাযোগ করা হলেও আসামীদের তালিকা পাওয়া যায়নি। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষন রায়। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দেয়া হয়েছে থানার এসআই শওকত মাছুদ ভূইয়াকে। তিনি সিলেট থেকে রোববার দুপুরে এ প্রতিবেদককে জানান, তাকে এ মামলার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কাজে তিনি বাহিরে আছেন। রাজনগরে এসে বিস্তারিত জানাবেন। এদিকে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষন রায় বলেন, এ মামলায় নিহতের বোন সুলতানা বেগম বাদী হয়ে ১৭জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহারে সব আসামীদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। ঘটনাস্থল থেকে ৫ হামলাকারীকে ধরে নেবার পর ২ জনকে ছেড়ে দেয়া হলো কেন এমন প্রশ্নর জবাবে ওই ওসি বলেন, যাদের আমরা আটক করি এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজন
ছিল এবং তারা বমি করছিল, চিকিৎসার স্বার্থে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের তুলাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ ওয়াপধা সড়কে একই উপজেলা রাজেন্দ্র দাশ রাজু ও ধীরু বাবু’র মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে দায়ের কুপে গুরুতর জখম হয়ে তুলাপুর গ্রামের নূর মিয়ার পুত্র কাজল মিয়া, তার ভাই হেলাল মিয়া ঘটনাস্থল থেকে
সিলেট নেবার আগেই মারা যান। আহত হন ধীরু দাশে’র ভাতিজা ও রনজিৎ দাশ’র পুত্র উত্তম দাশ, স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর মিয়া’র ভাই পংকি মিয়া, তার ছেলে জুবায়েলসহ আরো বেশ কজন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আহত উত্তম দাশ। এদিকে ঠিক কোন কারণে বৃক্ষ রোপণ থেকে সংঘর্ষের ঘটনায় রূপ নেয় এমনটা জানতে স্থানীয়রা ২ রকম কথা বলেছেন। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে তারা বলেছেন, সুনামপুর গ্রামের রাজু দাশ গংরা নিজেদের জমি উল্যেখ করে তুলাপুর এসে ওই জমিতে বৃক্ষ রোপণ করতে আসলে অপর পক্ষের ধীরু দাশ এতে বাধা দেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর মিয়াও ঘনাস্থলে এসে আপতত বৃক্ষ রোপণ না করতে পরামর্শ দেন। এতে রাজু গংরা ক্ষিপ্ত হয়। বাক-বিতন্ডার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আরেকটি সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় ইউপি সদস্য লুৎপুর মিয়া বৃক্ষ রোপণ করতে তাদের বাধা দেন। তারা তার নিষেধ না মানলে তিনি তার ছেলে-ভাতিজাদের ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এসময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৩ জনকে।  

 

যাযাদি/এসএস

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে