রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

জাজিরায় এসিল্যান্ডের বিচক্ষণতায় ধরা পড়লো জালিয়াত

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
  ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:৩৮

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানার বিচক্ষণতায় এক এনআইডি জালিয়াত গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জালিয়াতের নাম সোহেল আহম্মেদ খান(৬৭) এবং তার পিতার নাম আফতাব উদ্দিন খান। সে ঢাকার শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকার ঢালকা নগরের বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সোহেল আহম্মেদ খানের মায়ের নাম জোবেদা খাতুন। এমতাবস্থায় সে তার মায়ের নাম জালিয়াতি করে মাজু বিবি নামে একজনের ছেলে দাবী করে এবং তার স্বপক্ষে কিছু জাল কাগজ বানিয়ে জালিয়াতি করে তা বিকে নগর কেয়ামুদ্দিন বাজার এলাকার মৃত কলম সরদারের ছেলে বাবুল সরদারের কাছে ২০১৯ সালের (২৭-আগস্ট) জাজিরা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৩৩১২নং হেবা দলিল মূলে বিক্রি করে দেয়।

মাজু বিবির ছেলে সেজে বিক্রি করা ৯৮নং বড় কৃষ্ণ নগর মৌজার এস. ৩৬২ নং খতিয়ানের এস. ১১১৮৪, ১১২৩৪ ১১২৫৪ নং দাগ থেকে বাবুল সরদারের ক্রয়কৃত ১০৮ শতাংশ জমি দখলে গেলে সেখানে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার ফলে বাবুল সরদার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য গত (২৮-নভেম্বর) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করেন।

উক্ত অভিযোগটি জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করতে গিয়ে সন্দেহ হলে এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বিক্রেতার এনআইডি যাচাই করে দেখেন বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খান তার মায়ের নাম জালিয়াতি করেছে। জালিয়াতি করে মায়ের নাম জোবেদা খাতুন থেকে মাজু বিবি নামে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে মাজু খাতুন নামে একজনের ওয়ারিশ সেজে তার উল্লেখিত জমি বিক্রি করে দেয়।

পরে গত (২২-নভেম্বর) সুকৌশলে আলোচনার কথা বলে উপজেলা ভূমি অফিসে বাদী-বিবাদীসহ উক্ত জমি জালিয়াতি করা বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খানকে ডেকে আনা হয়। এরপর জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে জাজিরা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা।

পরে এবিষয়ে জাজিরা থানায় মোঃ সোলায়মান খানকে বাদী করে গত (২২-নভেম্বর) ১২/২৬৭ নংয়ের একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং মামলার বিপরীতে জালিয়াত আসামী সোহেল আহম্মেদ খানকে একইদিন কোর্টে সোপর্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।

বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা জানান, আমি বাবুল সরদারের অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু ত্রুটি পাই। যার ফলে সন্দেহ হওয়ায় আমি জাজিরা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বিক্রেতা সোহেল আহম্মেদ খানের এনআইডি যাচাই করি এবং তার মায়ের নামের সাথে মিল পাইনি। তাই তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক পর্যায়ে তার জালিয়াতির কথা স্বীকার করে নেয়। তখন আমি তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।

যাযাদি/ সোহেল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে