সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চলে মাটির ঘর

হাফিজুর রহমান. ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  ২১ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫০
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চলে মাটির ঘর

টাঙ্গাইলের মধুপুরে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শাল-গজারির বন মধুপুর গড়াঞ্চল। এক সময় মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল সহ পাশের ধনবাড়ী উপজেলায় এলাকাভেদে মাটির ঘর তৈরী ছিল বাসস্থানের একমাত্র অবলম্বন। শীত গরমে ঘরগুলো আরামদায়ক বাসস্থান। দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো ঐতিহ্যও বহন করে।

টাঙ্গাইলের বৃহত্তর মধুপুর উপজেলায় বিশেষ করে পাহাড়ী অঞ্চলে মাটির ঘর তৈরী হতো। তবে কালের আবর্তে সেই পুরনো ঐতিহ্যের মাটির ঘর আজ বিলুপ্তের পথে। আর্থিক স্বচ্ছলতা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মাটির ঘর নির্মাণে আগ্রহ নেই মানুষের। এক সময় উপজেলার পাহাড়ী এলাকার ধনী গরিব প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মাটির ঘর ছিল।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহত্তম গড়াঞ্চল পহাড়ী বন এলাকা মধুপুর উপজেলা ভাগ হয়ে ২০০৬ সালে দুই টি উপজেলায় বিভক্ত হয়। ধনবাড়ী নামে আরেক নতুন উপজেলা গঠিত হয়। বহত্তর মধুপুর উপজেলা দুই টি উপজেলায় বিভক্ত হলেও ধনবাড়ী উপজেলার কিছু অংশ পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় এখনো সে অঞ্চলে চোখে পড়ে পুরনো মাটির ঘর। তবে বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।

এ অঞ্চলের কৃষাণ-কৃষাণী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলেই অল্প কয়েক দিনেই তৈরী করতেন। মাটিতে কোদাল দিয়ে ভালো করে গুড়িয়ে নেওয়া হতো। তারপর পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা বানাতেন। সেই মাটি দিয়েই হয় ঘর। অল্প-অল্প করে কাঁদা মাটি বসিয়ে ৭ ফুট থেকে ৮ফুট উচ্চতার পূর্ণাঙ্গ ঘর তৈরী করতে সময় লাগতো মাত্র মাস খানেক। সম্পূর্ণ হলে তার উপর ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হয় ধানের খড়। এমনভাবে ছাউনি দেয়া হয় যেন ঝড়-বৃষ্টি কোন আঘাতেই তেমন একটা ক্ষতি করতে না পারে।

কাল পরিক্রমায় বর্তমানে অর্থনৈতিক স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন মাটির দেয়াল দিয়ে উপরে টিনের চালা দেন তারা। আবার ধনীদের বাড়ীতে থাকতো বিভিন্ন নকশা করা দুই তালা ঘর। কারো কারো বাড়ীতে শত বছরের মাটির তৈরী দু‘তলা বাড়ী লক্ষ্য করা যায়।

উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়ন পষিদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক সরকার জানান, তাদের বাড়ীতে দুতলাসহ একাধিক মাটির ঘর ছিল। আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং এলাকায় ইট ভাঁটির কারণে বাপ-দাদার আমলের দোতলা মাটির ঘরটিও ভেঙে পাকাঘর তৈরী করেছেন। তবে তাদের এলাকায় এখনও কিছু কিছু বাড়িতে মাটির ঘর রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক মধুপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা: মীর ফরহাদুল আলম মনি জানান, আগের দিনে আমাদের মধুপুরের শাল-গজারির বনে বেশীরভাগ লোক মাটির তৈরী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করত। বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এস কিছু টা পরিবর্তন হয়ে টিনের বা পাঁকা বাড়ী নির্মাণ করছে। সেই সাথে কিছু গরীব অসহায় লোকজন আছে যাদের ঘর টিনের ঘর নির্মাণ করার সামর্থ নেই । তাদের কে প্রাধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। মাটির ঘর এখন বিলুপ্তির পথে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে