বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকলেও অফিসেই আসেননি প্রকৌশলী, কর্মকর্তাকে শোকজ

তালতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি
  ৩০ মে ২০২৪, ২০:৩৯
ছবি-যায়যায়দিন

বরগুনার তালতলীতে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালের’ জরুরি তথ্য সংগ্রহ এবং বিতরণের জন্য কন্ট্রোলরুমের দায়িত্ব থাকলেও তা পালন করেননি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর ফলে জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কোনো তথ্যই পায়নি সাধারণ মানুষ।

এ জন্য ঐ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী। কর্তৃপক্ষ তাকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বেলা ১১ টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এস, এম, হুমায়ূন কবীর। এর আগে গত ২৭ মে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. অলি আখতার হোসেন ও বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এস, এম, হুমায়ূন কবীর পৃথক দুইটি শোকজ নোটিশ দেয় উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন কে।

এ জন্য সরকারি সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে এ উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সরকারি সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়। এই ঘূর্ণিঝড় রিমালের গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস ও জলোচ্ছ্বাস সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম চালু করে উপজেলা প্রশাসন।

পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানকে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে গত ২৬ মে রবিবার দুপুর ২ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ও তার সহকারী হিসাব রক্ষণ মাসুদ সিকদারকে।

তবে উপজেলা প্রকৌশলীসহ তার হিসাব সহকারী মাসুদ রবিবার রাত ১০টা পর্যন্ত অফিসেই আসেনি। কন্ট্রোল রুমে দেওয়া নম্বরে একাধিকবার তথ্য জানার জন্য ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দুপুর ২ থেকে রাত ১০টা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন ব্যহত হয়েছে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো তথ্যই পায়নি সাধারণ মানুষ। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় ঐ প্রকৌশলী কতৃপক্ষকে অবহিত না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ঢাকায় ছিলেন।

এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় ’কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকলেও অফিসেই আসেননি প্রকৌশলী’ শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে এলজিইডি কতৃপক্ষের।

পরে তাকে অসাদাচরণের জন্য কৈফিয়ত তলব করেন এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী। সেখানে উল্লেখ করেন উপজেলা প্রশাসনের আদেশ উপেক্ষ করে কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২৬ মে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ঢাকায় অবস্থান করেন। আপনি ও আপনার কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারীগণও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কোনো তথ্যই পায়নি সাধারণ মানুষ। আপনার এমন দায়িত্বহীন কার্যকালাপের জন্য বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে এলজিইডি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নু হয়েছে। আপনি সরকারি কর্মচারি(শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) অনুযায়ী অসাদাচরণের সামিল ও শস্তিযোগ্য অপরাধ। এই কার্যকলাপের জন্য বিধি অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে শস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব আগামী ৭ দিনের ভেতরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শোকজপত্র পেয়েছি। যথাযথভাবে জবাব দিবো।

নির্বাহী প্রকৌশলী এস, এম, হুমায়ূন কবীর বলেন, প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় উপজেলা প্রকৌশলীকে শোকজ করেছে। আমিও তাকে শোকজ করেছি। পৃথক দুটি শোকজের জবাব সাত দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে। জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে