logo
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৬

  বিনোদন রিপোর্ট   ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০  

সরকারি প্রণোদনার দাবি চলচ্চিত্র পরিবারের

সরকারি প্রণোদনার দাবি চলচ্চিত্র পরিবারের
করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে অপু বিশ্বাস ও বাপ্পী চৌধুরীর প্রথম ছবি 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২'
মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় কয়েকশ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প। টানা দুই মাস শুটিং ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ থাকায় বেকায়দায় আছে মালিক ও লগ্নিকারকরা। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের শিল্পী এবং কলাকুশলীরাও আছেন অস্তিত্ব সংকটে। চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছে চলচ্চিত্র পরিবার। সরকারি প্রণোদনা ছাড়া কিছুতেই চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, প্রদর্শক সমিতি এবং পরিচালক ও শিল্পী সমিতির নেতারা। পাশাপাশি অনেক তারকাও বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছেন।

চলচ্চিত্রের চলমান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, "মুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্র মুক্তি না পাওয়ায় ও দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় চলচ্চিত্র শিল্পের 'প্রায় ২০০ কোটি টাকা' ক্ষতি হয়েছে। এমনকি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শেষ হওয়ার পরও ক্ষতিটা কতকাল বয়ে বেড়াতে হবে- সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।'

করোনাভাইরাসের থাবায় ক্রমাগত ধুঁকতে থাকা চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন এ প্রযোজক নেতা।

একই সুরে কথা বলেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, 'করোনাভাইরাসের কারণে চলচ্চিত্রে যে বিরাট অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে, সেটা ব্যক্তি উদ্যোগে সমাধান করা যাবে না। এর জন্য দরকার সরকারি অনুদান। সরকারি অনুদান ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। গত দুই মাসে একটাও শুটিং হয়নি। কোনো সিনেমা হল চলেনি। প্রযোজকরা লগ্নি করতে পারেনি। সবাই লোকসানের মুখে পড়েছে।'

জায়েদ খান আরও বলেন, 'শিল্পটা যেহেতু বড়, ক্ষতিটাও বড়। তাই আমাদের কারও একার পক্ষে এটিকে টেনে হিঁচড়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সামনে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা হবে। সেখানে চলচ্চিত্রের জন্য প্রণোদনা থাকা উচিত। আমরা চাইব সরকার বাণিজ্যিক ছবিতে অনুদান বাড়িয়ে দিক।'

একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিনও। চলচ্চিত্রের রুগ্‌ণ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সরকারি অনুদানের বিকল্প চিন্তা করতে পারছেন না। তার মতে, শিল্প হিসেবে এই সংকটে চলচ্চিত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনাই একমাত্র সমাধান। মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, 'সরকার গার্মেন্ট শিল্পে যেভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে; চলচ্চিত্র শিল্পেও সেরকমটা জরুরি। অন্যথায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাবে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি।'

দেশের হল মালিকদের 'নাজুক' পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রদর্শক সমিতির এ নেতা বলেন, 'দেশের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে আমাদের হলগুলো কবে খোলা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে অনেক হলের যন্ত্রপাতি হয়তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিনেমা না চলায় স্টাফদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না মালিকরা।'

হলের কর্মচারীদের জন্য ত্রাণের বন্দোবস্তের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান এ নেতা।

এদিকে প্রথমবারে মতো এবারের ঈদে মুক্তি পায়নি কোনো ছবি। বাংলা নববর্ষেও বন্ধ ছিল প্রেক্ষাগৃহগুলো। এমনকি শিগগিরই চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে কি না- তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সমিতির নেতারা। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরা নিয়েও শঙ্কায় আছেন তারা।

অপরদিকে, লোকসান ও দেনার দায়ে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সিনেমা হলগুলো। সর্বশেষ এ তালিকায় যোগ হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই সিনেমা হল 'অভিসার' ও 'নেপচুন'। কার্যতই চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ও হল মালিকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা দিতে হবে। অন্যথায় চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

এমন আশঙ্কার কথা শোনা গেছে প্রথম সারির তারকাদের মুখেও। এর মধ্যে অন্যতম চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি 'করোনা পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ' প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যে কোনো দুর্যোগের পরেই একটা আফটার অ্যাফেক্ট থাকে। আমরা যারা বড় জায়গায় আছি, তারা হয়তো উতরে যাব। কিন্তু যারা টেকনিশিয়ান আছে তাদের অনেকে হয়তো অন্য পেশায় চলে যাবে। যারা থাকবে তারা তখন পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিবে। তখন হয়তো কাজের পরিমাণ কমে যাবে। এর সবকিছুই কিন্তু আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে