logo
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৬

  বিনোদন রিপোর্ট   ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০  

উদ্বিগ্ন তারকারা

বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে শোবিজ

বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে শোবিজ
করোনাভাইরাস থাকাকালীন সময়েই শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। সে সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে শুরু হয়েছে শুটিং, ডাবিং এডিটিং। কিন্তু করোনার মাঝে সবকিছু খুলে দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে শেবিজ অঙ্গনে। পাশাপাশি করোনা পরবর্তী সময়ে শোবিজ অঙ্গনের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশের প্রথম সারির কয়েকজন তারকা। দর্শক খরা, হল বন্ধ হয়ে যাওয়া, লগ্নিকারকের অভাব, টেকনিশিয়ান সংকটসহ চলচ্চিত্রকে বহুমুখী সমস্যায় পড়তে হবে; এমনটি মনে করছেন তারা। এমনকি টিভি নাটকেও করোনা পরবর্তী সময়ে ধকল যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, সীমিত পরিসরে শিল্পী নিয়ে কাজ করার প্রবণতা তৈরি হবে নাটকে। ফলে কাজের সংখ্যা কমে যাবে বেশিরভাগ অভিনয় শিল্পীর।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, 'এত দিন স্বল্পআয়ের শিল্পীদের যত ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে; সবই ব্যক্তি উদ্যোগে। তবে চলচ্চিত্রের মতো বড় একটি শিল্পকে আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে আর এগিয়ে নিতে পারব না। দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।'

লগ্নিকারক সংকট ও করোনাপরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় তুলে ধরে শিল্পী সমিতির এ নেতা বলেন, 'টানা দুই মাস কোনো প্রযোজক লগ্নি করতে পারেনি। হলে একটিও ছবি চলেনি। এ সময়টাতে কয়েকশ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেসব লোকসান পোষাতে হলে বাণিজ্যিক ছবিতে সরকারি অনুদান বাড়াতে হবে। চলচ্চিত্রের বাজেট স্বল্পতা না কমলে পুরোচলচ্চিত্র পরিবার ভোগবে।'

একই বিষয় কথা বলেন 'পোড়ামন'খ্যাত নায়ক সায়মন সাদিক। তিনি বলেন, 'প্রতিনিয়ত চলচ্চিত্রকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা সংকট। সবমিলিয়ে টানা দুই মাস ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গন প্রায় অচল। বিশেষ করে একসঙ্গে এতগুলো হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব তো পড়বেই। তবে করোনা পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানুষকে হলমুখী করা। এমনিতেই মানুষ হলমুখী না। তার ওপর করোনা এমন একটি ভাইরাস, যা দ্রম্নত ছড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আগের চেয়ে হলে কম যেতে চাইবে। দর্শকবিহীন সিনেমা হল মোকাবিলা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে আমি মনে করি।'

লকডাউন পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের পরিণতি কী হবে? এমন প্রশ্নের সোজা-সাপ্টা উত্তর দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তিনি বলেন 'সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো জায়গায় যাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাস আমাদের আরেকটা বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এটা অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করবে আমাদের প্রচেষ্টার উপর। যেকোনো দুর্যোগের পরেই তার আফটার অ্যাফেক্ট থাকে। আমরা যারা বড় জায়গায় আছি, তারা হয়তো উত্তরে যাব। কিন্তু যারা টেকনিশিয়ান, তাদের অনেকে হয়তো অন্য পেশায় চলে যাবে। যারা থাকবে তারা তখন পারিশ্রমিক বাড়তি পাবে। তখন হয়তো কাজের পরিমাণ কমে যাবে। এর সবকিছুই কিন্তু আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।'

'পটাকা'খ্যাত এ অভিনেত্রী আরও বলেন, 'লগ্নিকারকদের অনেকেরই মনে হবে এটা সঠিক সময় না বিনিয়োগের জন্য। একটা বড় ধাক্কা আমরা খাবই। কিন্তু আমরা যদি আমাদের পেশাকে ভালোবাসি, তাহলে এর মধ্য দিয়েই কাজ করতে হবে। সময় সবকিছু ঠিক করে দেবে। কিন্তু ধৈয্য ধরে আমরা থাকতে পারব কিনা, সেটাই প্রশ্ন।'

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি যাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রির কি অবস্থা হবে বুঝতে পারছি না। বেশ কয়েকটা ছবির ব্যাপারে কথা হয়ে আছে। কিন্তু পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের কাজ।'

তাছাড়া কাজের ক্ষেত্রেও তখন বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আগের মতো স্বতস্ফূর্তভাবে হয়তো শুটিং করা যাবে না। অনেক সতর্ক ও ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে।'

এদিকে ছোট পর্দার অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী আশ্‌না হাবিব ভাবনা কথা বলেছেন ছোট পর্দার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে। ভাবনার মতে, করোনা পরবর্তী সময়ে নাটকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হবে শুটিং। আগে হুটহাট করেই আউটডোর শুটিং করা যেত। এখন সেটা করা যাবে না। বিশেষ করে, সবাই চাইবে কম সংখ্যক লোক নিয়ে কাজ করতে। এতে শিল্পীদের কাজের পরিমাণ কমে যাবে। তাছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীদের দিয়ে কেউ কাজ করাতে চাইবে না। সবমিলিয়ে বড়সড় একটি চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে বলেই আমার মনে হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে