logo
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  বিনোদন রিপোর্ট   ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

পারিশ্রমিকই কি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রধান অন্তরায়!

পারিশ্রমিকই কি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রধান অন্তরায়!
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন শাকিব খান
নাজুক হতে হতে ক্রমেই যেন নুইয়ে পড়ছে দেশীয় চলচ্চিত্র। দর্শকশূন্যতার কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল। যে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে, সেটিই মুখ থুবড়ে পড়ছে। এ কারণে ক্রমেই বেকার হয়ে পড়ছেন অনেক তারকা, নির্মাতা ও কলাকুশলী। ছবি মুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কমে গেছে নির্মাণের সংখ্যাও। কিন্তু কেন এই অধঃপতন! এর মূল কারণ কী! এ বিষয়ে একেকজন একেক রকম মন্তব্য করছেন। গল্প ও শিল্পী সংকটের পাশাপাশি সিনেমা হলের পরিবেশকেও দায়ী করছেন একটি পক্ষ। অন্যপক্ষ বলছে, মেধাহীনতাই চলচ্চিত্রের ভরাডুবির অন্যতম কারণ। তবে তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নির্মাতাপক্ষ জানায় ভিন্ন কথা। তাদের দাবি প্রথম সারির তারকাদের উচ্চমাত্রার পারিশ্রমিকই ছবি নির্মাণের প্রধান অন্তরায়।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক শামীমুল ইসলাম শামীম বলেন, 'হলিউড আর বলিউডের অনেক মূল অভিনেতা একটি চলচ্চিত্রের মূল বাজেটের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নিয়ে যাচ্ছে তার পকেটে। তবে সেটির ব্যবসার পরিস্থিতি দেখে। সেখানে আমাদের দেশের প্রথম সারির নায়ক শাকিব খান ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়ার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা রাখেন। সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, হল মালিকরাও অনেকাংশে কম দায়ী নন। আমাদের একটি চলচ্চিত্র যদি সুপার-ডুপার ব্যবসা করে সে ক্ষেত্রে একজন প্রযোজক ৩০ শতাংশ মূলধন ফেরত পাচ্ছেন। যেখানে একটি টিকেটের দাম দেড়শ টাকা। সেখান থেকে প্রযোজক পাচ্ছে মাত্র বার টাকা! এটা কেন হচ্ছে। তবে এটা সত্য, চিত্রনায়ক শাকিব খান তার পারিশ্রমিক তার শুটিং থেকে শুরু করে সব প্রচার-প্রচারণায় আসেন আমার মতে তাকে এক কোটি টাকা দিয়ে নিলেও আমাদের যায় আসে না। সে চলচ্চিত্রের প্রতি বিনয় হলে তাকে দিয়ে এখনো সব নোংরা পরিবেশের প্রেক্ষাগৃহ থেকেও চলচ্চিত্রের অর্থ তুলে নিয়ে আসা সম্ভব। তার জ্বলন্ত প্রমাণ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র 'শিকারী'।

পারিশ্রমিক নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক সফিক হাসান জানান, 'শাকিব খানসহ অনেক চলচ্চিত্রের হিরো নিয়ে আমি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। এমনকি প্রযোজকের টাকাও তুলে দিয়েছি। এর প্রমাণ শাকিব খান অভিনীত 'ধূমকেতু' চলচ্চিত্রটি। তবে বর্তমান চলচ্চিত্র অনুযায়ী তাকে অবশ্যই বিশ থেকে ত্রিশ লাখ টাকার মধ্যে পারিশ্রমিক নেওয়া উচিত। কেননা আমরা একটা প্রযোজকের সঙ্গে একটি চলচ্চিত্রের বাজেট নিয়ে বসলে উঠে আসে আগে চলচ্চিত্রের মূল বাজেট নিয়ে। যেখানে শাকিব খানকে নিয়ে চলচ্চিত্রের কথা ভাবলে তিন কোটি টাকার মতো বাজেট হিসাবে চলে আসে। তখন হয় কি ওই প্রযোজক আর অর্থ খরচ করতে চান না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন কোন চলচ্চিত্র লেগে যায় আবার কোন কোন চলচ্চিত্রে অনেক পরিমাণ লস খেতে হয়। শাকিব খানকে নিয়ে যদি দেড় কোটি টাকার মধ্যে শেষ করে রিলিজ করা যায় তাতে করে তার চলচ্চিত্রে প্রথম টেবিল কালেকশন দেড় কোটি টাকা উঠে আসে। আর বাকি ইউটিউব স্বত্ব দিয়ে লাভজনক টাকা তোলা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তাতে করে আরও প্রযোজক শিউর শর্ট আর লাভের আশায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে আগ্রহী হবে। ধরুন কেউ তো আর পিয়াজ কিনে লস দিয়ে ব্যবসা করবে না।

তরুণ পরিচালক সাজ্জাদ খান বলেন, 'আমি চলচ্চিত্রে একদম নতুন। তবে আমার কাছের মানুষ সবাই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট। সেখানে নতুন নায়ক সিয়ামের 'পোড়ামন-টু' রিলিজ হওয়ার পর নিজে নিজে উপলব্ধি করি এবং শাকিব খানের বিকল্প হিসেবে তাকে আমার ছবিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করি। তাতে করে এই নায়ক প্রথমেই আমার থেকে পনের লাখ টাকা চেয়ে বসলেন। এছাড়া অনেক নায়কের সঙ্গে কথা বলে যে টালবাহানায় পড়তে হয়েছে। আবার অনেক হিরো আছেন যাদের কি না সতেরটি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি চলচ্চিত্র হিট করে নিজেকে একজন জিনের বাদশা মনে করে বসে আছেন। এটি প্রথম সারির হিরোদের উচ্চ পারিশ্রমিকের জন্য তারাও এই সুযোগ নিচ্ছে। আমি যদি তাদের ওপর ভরসা প্রথম প্রযোজককে চলচ্চিত্র হিট দিতে পারি তাহলে আমি আবার নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করতে পারব।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে