logo
রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়

মোংলা-পায়রায় বিপদ সঙ্কেত

‘বুলবুল’ আজ সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাতের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

মোংলা-পায়রায় বিপদ সঙ্কেত
ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝরছে বৃষ্টি। শুক্রবার সকাল থেকেই স্বেচ্চাসেকরা বিভিন্ন অঞ্চলে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করছেন। ছবিটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে তোলা -ফোকাস বাংলা
 


প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বাংলাদেশের উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রায় ৭ নম্বর ও চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি হয়েছে। ঝড়ের পথ ও গতি এ রকম থাকলে দেশের উপকূলের ১৩ জেলায় বুলবুলের আছড়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।


‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে খুলনা-বরিশাল এলাকার স্থলভাগে তা আঘাত হানতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। তবে ওই আঘাত হানার আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি, এমনটাই মত তাদের।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানিয়েছেন, বুলবুলের কারণে সমুদ্রে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু হয়ে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, ৫৫ হাজার ৫১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক ইতোমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে নেমেছেন। বুলবুলের প্রভাব পড়বে খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, ভোলা ও পিরোজপুর জেলায়। সব মিলিয়ে ১৩ জেলায় সতর্কতামূলক সঙ্কেত পাঠানো হয়েছে। ওই জেলাগুলোতে ঝড়ের আগেই শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।


আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখন যা গতিপ্রকৃতি, তাতে ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।  


জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আয়েশা খাতুন জানান, ঘূণিঝড়টি সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে আজ সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। 


ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের আয়োজন বন্ধ করে হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।


সুন্দরবনের গভীরতম এলাকা দুবলার চরে গত ১০০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় পালিত হয়। এ বছরের তিথি অনুযায়ী আগামী ১০ ও ১২ নভেম্বর রাস উৎসব আয়োজিত হওয়ার কথা। এখানকার পুণ্যস্নান ও উৎসবে প্রায় ৩০ হাজার পুণ্যার্থী যোগ দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে বুলবুলের আশঙ্কায় সুন্দরবনে পর্যটকদের যাওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


 


সারাদেশে নৌ-চলাচল বন্ধ


ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় সারা দেশে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ।


সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার শুক্রবার সন্ধ্যার পর বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে ২ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত জারি হওয়ায় সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।


 


বন্দরের বহির্নোঙরে 


পণ্য খালাস বন্ধ


ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর উত্তাল ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের   ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে।


শুক্রবার দুপুরে লাইটার শিপ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসির) একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সঙ্কেতকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে লাইটার শিপগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাতে যেসব লাইটার বহির্নোঙরে গেছে সেগুলো ফিরে আসছে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। বড় জাহাজের বিদেশি ক্যাপ্টেনরা আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে লাইটারিং বন্ধ করে দিয়েছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে