logo
শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

তাপসের জিজ্ঞাসা নিয়ে দুদক চেয়ারম্যানের প্রশ্ন

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলার তদন্ত নিয়ে সরকারি দলের সাংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলে নূর তাপসের সমালোচনার প্রায় দুই মাস পর জবাব দিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তদন্তাধীন এই বিষয়ে তাপস কথা বলতে পারেন না বলে মনে করেন তিনি।

বেসিককান্ডে দায়ের হওয়া ৫৬টি মামলার কোনোটিতেই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম না আসায় দুদকের 'ব্যর্থতায়' গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফজলে নূর তাপস।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওইদিন তিনি বলেন, 'দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন, তিনি কোনো প্রভাবের কারণে এ ব্যবস্থা নেননি, তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।

'আর যদি উনি মনে করেন যে, তিনি কোনো প্রভাব দ্বারা বা কারও কথায় প্রভাবিত হবেন না, তাহলে অবশ্যই জাতি মনে করে, আমরা মনে করি, শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করা হোক, তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।'

রোববার দুদক প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের র্(যাক) আয়োজনে 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদের কাছে তাপসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে তাপসকে উদ্দেশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'আপনি বাচ্চুর নাম কেমনে বলছেন, আপনি কে? আপনি কি ইনভেস্টিগেশন করছেন? কে কি বলছে দ্যাট ইজ নট আওয়ার কনসার্ন। এটা একটা পাবলিক ইন্সটিটিউশন। আপনি আমার পদত্যাগ চাইতে পারেন, অনেক কিছুই চাইতে পারেন, সেটা সমস্যা না।

'কিন্তু আপনি কে, যে প্রশ্ন করছেন বাচ্চুর নাম আসছে, কী বাচ্চুর নাম আসেনি? এটা তো আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। বাচ্চুর নাম আসবে না আপনি জানেন কেমনে? হু আর ইউ? ইনভেস্টিগেশন করার ম্যান্ডেট তো আমাদের, ম্যান্ডেট তো আপনার না। আপনি রিক্রিয়েট করলে তো হবে না বাচ্চুর নাম দেন বা দিয়েন না। সে যেই হোক না কেন, কারও কথা আমরা কেয়ার করি না।'

ইকবাল মাহমুদ বলেন, 'ইনভেস্টিগেশন শেষ হলে যখন চার্জশিট যাবে, তখন আপনি বলতে পারেন.... এটাকে নারাজি দেওয়া যায়, আরও প্রসেস আছে। আমরা যদি ভুল করি সরকার, ব্যাংক তখন নারাজি দিতে পারবে। কিন্তু আমার মনে হয় না এই ক্ষেত্রে আমরা কোনো ভুল করব। এটা জনগণ বিশেষভাবে জানে, তাই আমরা বিশেষভাবে কেয়ারফুল। যখন আমরা রিপোর্ট দেব, এত সহজে এটা নিয়ে আপনাদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেব না।'

মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং এসব মামলার অভিযোগপত্র তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনে জমা দিয়েছিলেন জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, '৫৬টি মামলা মোটামুটি একই ধরনের। এসব মামলায় যাদেরকে এফআইআরে আসামি দেখানো হয়েছিল তারা প্রায় এদিক-সেদিক করে এসেছে। ওই রিপোর্ট আমরা গ্রহণ করিনি। রিপোর্ট যখন আসলো, সমস্যা হয়ে গেছে... আমি দেখলাম যে, মানি কোথায় গেল? সেই তথ্য না দিয়ে আপনি যদি চার্জশিট কোর্টে দাখিল করেন, তাহলে এটি আমাদের জন্য বোকামি হবে।

'একজন তদন্ত কর্মকর্তা যখন সেই টাকা কোথায় গেছে তা না দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন তাহলে তা গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাগুলো শতভাগ শাস্তি হওয়া উচিত। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩০-৪০ ভাগ মামলায় শাস্তি হচ্ছে না, অর্থাৎ আমাদের দুর্বলতা আছে। হয় ইনভেসটিগেশনে, না হয় প্রসিকিউশনে অথবা কোথাও কোনো মিসিং লিংক আছে। সেটি আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু থিউরিটিক্যালি দুর্নীতির প্রতিটি মামলায় শাস্তি হওয়া উচিত।'

মামলার তদন্তে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে স্বীকার করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'সেই দুর্বলতাকে আরও বেগবান করতে এরকম আরও ফল্টি চার্জশিট দিতে রাজি নই।'

১৮০ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র বা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, 'প্রায় মামলাতেই আমরা ১৮০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিচ্ছি, কিছু কিছু মামলার ক্ষেত্রে আমরা পারি না। সেই কথা আমরা স্বীকার করি। তবে আমরা আশা করছি আমরা পারব। যেসব দেশে টাকা গেছে ইতোমেধ্য এমন কয়েকটি দেশে এমএলএআর করেছি। এমএলএআর আসলে পরে আমরা একটা দিকে যেতে পারব।'

কয়েক বছর আগে বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে আলোচনায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান বাচ্চুর নাম।

জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।

বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে, পরে দুদক ৫৬টি মামলা করে। বাচ্চুকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাকে কোনো মামলার আসামি করা হয়নি। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা তারা পায়নি।

কিন্তু তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির জন্য বাচ্চুকে দায়ী করেছিলেন। এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও বাচ্চুকে আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছিল।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে