logo
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৫

  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

আনসার-ভিডিপির জাতীয় সমাবেশ

অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম জাতীয় সমাবেশের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন -ফোকাস বাংলা
জননিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের সাহস, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম জাতীয় সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা বাহিনী। এ বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ বাহিনীর সদস্য ৬১ লাখ। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি গ্রামে বা মহলস্নায় এ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। সরকারের যেকোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মাধ্যমে খুব সহজেই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতা বর্তমানে সর্বজন স্বীকৃত। বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এ বাহিনীর সদস্যরা 'এভসেক' (এভিয়েশন সিকিউরিটি) এর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জনপদকে নিরাপদ রাখতে ২টি মহিলা ব্যাটালিয়নসহ এ বাহিনীতে ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এ বাহিনীর ১৬টি ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এ ছাড়া নবগঠিত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কূটনৈতিক এলাকা, কূটনৈতিক ব্যক্তি এবং দেশের বিশিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার সবসময় আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল। এই বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত আছে।

এর আগে সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী একাডেমিতে এসে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সালাম গ্রহণ ও খোলা জিপে করে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও সেবা এই দুই ক্ষেত্রে ৮টি ক্যাটাগরিতে ১৪৩ জন আনসার সদস্যকে পদক প্রদান করেন। পরে তিনি আনসার সদস্যদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের স্টল ঘুরে দেখেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সেবা প্রদান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারিগর-এ দুইয়ের সমম্বিত শক্তিকে আপনাদের কাজে লাগাতে হবে। দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। মনে রাখবেন, জনগণ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং শান্তির পরিবেশ ধরে রাখা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ। আপনারা এ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা সবাই একযোগে কাজ করলে বঙ্গবন্ধুর 'সোনার বাংলাদেশ' অচিরেই বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারব- এটা আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২০-২০২১ সালকে 'মুজিববর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে 'মুজিববর্ষ' উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী 'মুজিববর্ষের উদ্দীপন, আনসার ভিডিপি আছে সারাক্ষণ' স্স্নোগানটিকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ জন্য আমি বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যাবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপনাদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বদাই আমাদের সুদৃষ্টিতে রয়েছে। আপনাদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দৃষ্টান্তমূলক দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর সেবা ও সাহসিকতা পদক আমাদের সরকারই প্রবর্তন করেছে। আজ যারা সেবা ও সাহসিকতা পদক অর্জন করেছেন তাদের আমি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যগণ খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। সদ্যসমাপ্ত এসএ গেমস- এ বাংলাদেশের অর্জিত ১৪২টি পদকের মধ্যে ৬৮টি পদক অর্জন করেছে এ বাহিনীর খেলোয়াড়গণ।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে