logo
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৫

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

তৃতীয় ডাবলে সবার ওপরে মুশফিক

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্ট

তৃতীয় ডাবলে সবার ওপরে মুশফিক

টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে ১৩টি বছর। ২০১৩ সালে গল টেস্টে মুশফিকুর রহিমের হাত ধরেই সেই ইতিহাস হয়েছে সূচিত। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন এতদিন তিনিই। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ২১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য সেটাই ছিল সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেই জিম্বাবুয়েকে সামনে পেয়ে আরেকটা ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুশফিক। রেকর্ডগড়া সেই ২১৯ রানের ইনিংসের পরের দশ ইনিংসে সেঞ্চুরি পাননি তিনি। ফিফটি পেয়েছেন মাত্র দুটি। রানখরা কাটালেন সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। এনদোলোভুল করা ১৫৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পৌঁছে যান দুইশ রানের ম্যাজিক ফিগারে। টেস্টে তিনটি ডাবলে অস্ট্রেলিয়ার বব সিম্পসন, স্টিভেন স্মিথ, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ভারতের চেতেশ্বর পুজারা, পাকিস্তানের আজহার আলী, ইংল্যান্ডের জো রুট, কেভিন পিটারসেন, নিউজিল্যান্ডের রস টেলর ও স্টিফেন ফ্লেমিং, শ্রীলংকার জয়সুরিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলদের ক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছেন মুশফিক। তবে সবচেয়ে কম ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বব সিম্পসনের (৬২ টেস্ট) পরেই মুশফিকুরের (৭০ টেস্ট) অবস্থান। তবে ২৪ ফেব্রম্নয়ারি দিনটি শচিন টেন্ডুলকার-ক্রিস গেইলদের মতো স্মরণীয়। ১৯৮৮ সালে বিনোদ কাম্বলিকে নিয়ে শচীন টেন্ডুলকার ৬৬৪ রানের ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো নিজেকে চেনান। ২২ বছর পর ২০১০ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম দ্বিশতক হাঁকাতে দেখা যায় শচীনকে। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দ্বিশতক করেন ক্রিস গেইল। ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় দ্বিশতক তুলে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এইসব ঘটনার সাক্ষী ২৪ ফেব্রম্নয়ারি দিনটি। ভারতের আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হ্যারিস শিল্ডে শ্রদ্ধাশ্রম বিদ্যা মন্দির স্কুলের হয়ে সেন্ট জেভিয়ারের বিপক্ষে খেলছিলেন কাম্বলি ও শচীন। দুই বন্ধু মিলে ৬৬৪ রানের জুটি গড়েন। পরের বছরই জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় ১৬ বছর বয়সি শচীনের। কাম্বলি অবশ্য সুযোগ পেয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। কাম্বলি ২০০০ সালেই থামলেও ২০১১ সালে ভারতকে বিশ্বকাপ তুলে দিয়ে ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন শচীন। ২০১০ সালের গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম দ্বিশতকটি এসেছিল শচীনের ব্যাট থেকে। ১৪৭ বলে ২০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন মাস্টার বস্নাস্টার। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০১৫ বিশ্বকাপে দ্বিশতক করার রেকর্ড গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ক্রিস গেইল। কেনাভেরায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৭ রানে ২১৫ করে থেমেছিলেন ইউনিভার্সেল বস খ্যাত এই তারকা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ক্যারিয়ারের তৃতীয় দ্বিশতক তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ৩১৮ বলে ২০৩ রানে অপরাজিত থাকাকালেই ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি মুশফিকের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল একটি করে দ্বিশতক তুলে নিয়েছেন। এই ইনিংস খেলার পথে দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডও গড়েছেন মুশফিক। তার আগে রেকর্ডটি ছিল দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের দখলে। বর্তমানে টেস্টে মুশফিকের রান ৪৪১৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিমের সংগ্রহ ৪৪০৫ রান। সাকিব আল হাসান আছেন তালিকার তিনে। তিনি করেছেন ৩৮৬২ রান। ক্যারিয়ারে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি, তামিম ইকবালকে ছাপিয়ে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যাওয়া। দিনশেষে মুশফিক জানালেন, ডাবল সেঞ্চুরির উদ্‌যাপন এসেছে নিজের দুই বছর পেরুনো সন্তান মায়ানের কথা ভেবে, 'না স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা করছিলাম, অত ভেবে এমন করিনি (উদ্‌যাপন)। ডাবল সেঞ্চুরির পর যে উদ্‌যাপন করেছি, তা আসলে আমার ছেলের জন্য। আমার ছেলে ডাইনোসরের খুব বড় ভক্ত। ও ডাইনোসর দেখলে যেমন উদ্‌যাপন করে তেমন করতে চেয়েছি।' ডাবল সেঞ্চুরির উদ্‌যাপনের একদম আলাদা উদ্‌যাপন সেঞ্চুরি পেরিয়ে করেছিলেন মুশফিক। ৯৯ থেকে তিন অঙ্কে পৌঁছতেও বাউন্ডারি মেরেছিলেন মুশফিক। তারপর শূন্যে ব্যাট তাক করে পুল করার ভঙ্গি করেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রাখা হবে না বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এই উদ্‌যাপনে অবশ্য এসব জবাব দেওয়ার কোনো ভাবনা কাজ করেনি বলে জানালেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, 'না, কারো উদ্দেশে কিছু করিনি। এটা যদি আপনারা বানিয়ে নেন তাহলে তো কিছু করার নেই। (হাসি) আমি আসলে আমার ক্যারিয়ারে যত কিছু করেছি, উদ্‌যাপনে প্রতিশোধ বা প্রতিবাদ এরকম কিছু কখনো করিনি। আমি মনে করেছি নিজের খেলাটা খেলে যাব যতদিন খেলি। যেটা বললাম পূর্বপরিকল্পিত কিছুই ছিল না কিন্তু এটা ছিল যে ডাবল সেঞ্চুরি যদি করতে পারি তাহলে আমার ছেলের জন্য উদ্‌যাপন করব। এই একটা অনুপ্রেরণা ছিল যেটা আমাকে পুশ করেছে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে