সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ১৩ চৈত্র ১৪২৯
walton

জীবনে প্রেম এসেছিল সরবেই

মোশাররফের আত্মজীবনী
যাযাদি ডেস্ক
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:১৩
আপডেট  : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০০

ঘটনাবহুল জীবন তার। সেই বিতর্কিত ও আলোচিত চরিত্র পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ রোববার মারা গেছেন ৭৯ বছরে। ব্যক্তিগত জীবনে কেমন ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান? কেমন ছিল তার প্রেমজীবন? সে কথা আত্মজীবনীমূলক বইতে লিখে গেছেন মোশাররফ। সেখানেই বলেছেন এক বাঙালি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের কাহিনী। ভাষার বাধা ছিল, কিন্তু তা নাকি মনের বাধা হয়নি। কোথায় থাকেন তিনি? বাংলাদেশের নাটোরে নয় তো! নাম কি বনলতা সেন! কখনো জানাননি প্রেমিক মোশাররফ।

২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন মোশাররফ। ২০০৬ সালে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘ইন দ্য লাইন অব ফায়ার : আ মেমোয়ার’ প্রকাশিত হয়। সেখানে জীবনের নানা কথা তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিজের প্রেমিক সত্তাও পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। মোশাররফ জানান, তার দ্বিতীয় প্রেমিকা ছিলেন এক বাঙালি মেয়ে। যদিও ব্যর্থ হয় সেই প্রেম। এবং সেই নারী এখন এক বাংলাদেশির ঘরনী। থাকেনও বাংলাদেশেই।

আত্মজীবনীতে মোশাররফ লেখেন, ‘সে এখন সুখী দাম্পত্য কাটাচ্ছে। থাকে বাংলাদেশে।’ কিন্তু ওই বাঙালি প্রেমিকার নাম কখনো জনসম্মুখে আনেননি মোশাররফ। দ্বিতীয় প্রেমিকাকে নিয়ে আত্মজীবনীতে যে কয়েক লাইন লিখেছেন, সেখানে শুধু ‘বাঙালি’ শব্দের উল্লেখ রেখেছেন। আর জানিয়েছেন কিভাবে এই প্রেম হয়েছিল।

সাবেক পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট জানান, বাঙালি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের আগে অন্য একটি সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু সেটা নেহাতই কিশোর বয়সের ভালোলাগা। ভালোবাসা কি-না বুঝতে না বুঝতেই ‘প্রথম প্রেমিকা’ মোশাররফের জীবন থেকে হারিয়ে যান।

দ্বিতীয় প্রেম অর্থাৎ বাঙালি তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমকে প্রথমের চেয়ে অনেক বেশি গভীর বলে উল্লেখ করেছেন মোশাররফ। কিশোর প্রেমের আখ্যানে মোশাররফ লিখেছেন, কিভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেমিকাকে চিঠি পাঠাতেন। কী ভাবে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে থাকতেন।

মোশাররফ জানিয়েছেন, ওই বাঙালি প্রেমিকা তার প্রতিবেশী ছিলেন। করাচির গার্ডেন রোডে ছিল তাদের পাশাপাশি বাড়ি। যাতায়াতের পথেই পরিচয় এবং মন দেওয়া-নেওয়া। আত্মজীবনীতে মোশাররফ জানান, গার্ডেন রোডের বাড়ি ছিল তার ‘কিশোর প্রেমের রাজধানী’। প্রথম প্রেমিকার বাড়ি ছিল গার্ডেন রোডে। কিন্তু পরে তার পরিবার অন্যত্র বাড়ি নিয়ে চলে যান। তারপর শুরু দ্বিতীয় প্রেম।

দ্বিতীয় প্রেমিকাকে নিয়ে মোশাররফ লেখেন, ‘সে ছিল সুন্দরী ও বাঙালি। পূর্ব পাকিস্তানে ওদের বাড়ি। আগের প্রেমের মতো এই প্রেম আমার কাছে অতটা তুচ্ছ ছিল না।’ তিনি যে এই প্রেম নিয়ে ‘সিরিয়াস’ ছিলেন, তা পরোক্ষে বোঝাতে গিয়ে এই ‘অতটা তুচ্ছ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন তিনি।

মোশাররফ জানান, তার দ্বিতীয় প্রেমের সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর টিকেছিল। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগপর্যন্ত নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করতেন প্রেমিকার সঙ্গে। এমনকি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কে ছিলেন।

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরও মোশাররফের মন পড়ে থাকত পাড়ায়। আরও স্পষ্ট করে বললে বাঙালি প্রেমিকার জন্য। তিনি জানান, প্রথম ভাগে করাচিতে ৩৬তম ‘লাইট অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট রেজিমেন্ট’-এ প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন, যাতে প্রেমিকার কাছ থেকে খুব দূরে কোথাও না যেতে হয়।

বইতে মোশাররফ লেখেন, ‘কেন সেনা প্রশিক্ষণের জন্য করাচিকে বেছে নিয়েছিলাম আমি? না, তার কারণ আমার পরিবার নয়। এটা ছিল ওই বাঙালি মেয়ের জন্য। ও ওখানে থাকত তাই...।’

কিন্তু ন্যূনতম অস্ত্র প্রশিক্ষণ ছাড়া তো সরাসরি ‘অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট রেজিমেন্ট’-এ যাওয়া যায় না। তাই অনিচ্ছা সত্তে¡ও পরে অন্য খানে চলে যেতে হয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মোশাররফকে। প্রেমিকার জন্য মন কেমন করা অনুভ‚তি নিয়েই তার কাছ থেকে দূরে সরে যান তিনি।

মোশাররফ জানান, তার এই দ্বিতীয় প্রেমের ‘সমাপ্তি’ ছিল ‘আকস্মিক’ এবং ‘অপ্রত্যাশিত’। তিনি লিখেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো মেয়েটির পরিবার হঠাৎ পূর্ব পাকিস্তান চলে গেল। আর সেখানেই শেষ হলো প্রেম।’

বাঙালি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে ধরাও পড়েন সাবেক পাকিস্তানি সেনাপ্রধান। সমস্যা হয় মেয়েটির। মোশাররফ লেখেন, ‘ওর মা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করেন। কারণ, ও (প্রেমিকা) পড়াশোনায় ক্রমশ অমনযোগী হয়ে পড়েছিল।’ মোশাররফ লেখেন, ‘আমি গড়পড়তা শিক্ষার্থীর চেয়ে পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। মোটামুটি ক্লাসের প্রথম চার-পাঁচ জনের মধ্যে নাম থাকত। আমার যখন বয়স ১৫ বছর, পরীক্ষার ফলও খারাপ হতে থাকে।’

মোশাররফ লিখেছেন, তার প্রথম প্রেম হয়তো ভালো লাগার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। তবে চিঠি দেওয়া-নেওয়া চলতই। দাদি আম্মার অজান্তে তাকেই ‘প্রেমের ডাকপিয়ন’ করেছিলেন ছোট্ট মোশাররফ। দাদিকে বলতেন, ‘যাও প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করে এসো।’ আর তার অলক্ষ্যে বোরকার পকেটে ভরে দিতেন প্রেমপত্র।

প্রেমিকাকে আগেই বলা থাকত, কোথায় থাকবে প্রেমপত্র। এভাবেই বেশ কিছুদিন চলছিল সেই প্রেম। কিন্তু প্রথম প্রেমিকার পরিবার অন্য খানে বাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পর মোশাররফের জীবনে প্রবেশ দ্বিতীয় প্রেমের। তবে দ্বিতীয় প্রেমটা জোরালোই ছিল। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন। এখন সেই প্রেমিকা এক বাঙালির ঘরনী। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গে থাকেন বলে জানান মোশাররফ। সংবাদসূত্র : এবিপি নিউজ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে