শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

আরবের হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় নগরী

যাযাদি ডেস্ক
  ১৯ মে ২০২৪, ১৯:৫৬
ছবি-সংগৃহিত

ঐতিহাসিক হেগ্রা শহরের নাম তো অনেকেই শুনেছেন। দুই হাজার বছর আগের নবতায়িয়ান সভ্যতার বিষ্ময়কর মানুষদের তৈরি এই শহর যেন পুরাতত্ত্বের খনি। খোদাইকৃত পাথরের অসাধারণ শিল্পকর্ম আর প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক এই শহর এখনকার সৌদি আরবের আল-উলা উপত্যকার মধ্যে পড়েছে।

কিন্তু কালের সাক্ষী ওসব স্থাপনা দেখার সৌভাগ্য সবার হতো না এতদিন। সীমিত সংখ্যক মানুষকে সেখানে ভ্রমণের সুযোগ দিত সৌদি সরকার।

তবে তেল রপ্তানিমুখী অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার স্বার্থে এখন পর্যটনেও জোর দিয়েছে দেশটি। আর সে লক্ষ্যেই এবার সৌদির বুকে লুকিয়ে থাকা অসীম রহস্য-বিষ্ময়ের ভাণ্ডার দেখার সুযোগ পাবে বহির্বিশ্ব।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিবিড়ভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়ে আসছে সৌদি আরব। এতদিনের গবেষণায় গবেষকরা সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন আল-উলা উপত্যকার এই হেগ্রা শহরটির পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে।

অঞ্চলটির নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য আর প্রাচীন ঐতিহ্য বহির্বিশ্বের কাছে উপস্থাপনের জন্য এটিকে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক মরুদ্যানে পরিণত করা হয়েছে।

শহরগুলো একে অপরের সাথে জুড়ে থাকবে মনোমুগ্ধকর ছায়াঘেরা ২০ কিলোমিটারব্যাপী সবুজ মরুদ্যান দিয়ে। সেই মরুদ্যানের পথ ধরে পায়ে হেটে, বাইসাইকেলে কিংবা ঘোড়ায় চড়ে এক এক শহরের রহস্যময় পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য অবলোকন করা যাবে ।

দুই হাজর বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত এ অঞ্চল একসময় জমজমাট বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে ১০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে থাকা নবতায়িয়ান সভ্যতার দ্বিতীয় রাজধানী ছিল এ অঞ্চল।

তবে অঞ্চলটির প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। অনেকে হয়তো কখনো রহস্যময় ও আকর্ষণীয় নবতায়িয়ান সভ্যতার নামই শোনেনি। নবতায়িয়ানরা ছিল মূলত মরুভূমিতে বসবাসকারী যাযাবর জাতি, পরবর্তীতে তারা এ অঞ্চলে বাণিজ্য প্রসারেও ভূমিকা রাখে।

সৌদি আরব ও জর্ডান হয়ে মিশর, সিরিয়া ও মেসোপটেমীয় অঞ্চলে ধূপ ও মশলা বিক্রি করতো। সৌদি আরবের একাংশ, ইজরাইল ও সিরিয়া দখল করে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করার পর-ই ধীরে ধীরে নবতিয় সভ্যতা হারিয়ে যায়।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে