জাবির হল সুপার একজন ছুটিতে, অন্যজন বসে না অফিসে

জাবির হল সুপার একজন ছুটিতে, অন্যজন বসে না অফিসে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানে হল সুপারিনটেনডেন্ট রয়েছে মাত্র দুইজন। তাদের একজন শাহনাজ আক্তার ও অপরজন নাদিয়া সুলতানা।

শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় দেখভাল করেন হল সুপারেরা। প্রধানত আবাসিক শিক্ষার্থীদের রুম বন্টনের দায়িত্ব পালন করেন তারা। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে মেডিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া ও এম্বুলেন্স কল করার দায়িত্বও তার।

তবে হলটির দুইজন সুপারিনটেনডেন্টের মধ্যে একজন রয়েছে শিক্ষা ছুটিতে। অন্যজন হলে থাকলেও বসেন না নিজের অফিসে।

ফলে শিক্ষার্থীরা সময়মত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দানা বাধছে তীব্র ক্ষোভ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে ৮৯ দিনের ছুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান শাহনাজ আক্তার। পরবর্তীতে শিক্ষা ছুটি হিসেবে আরও ৯ মাস ১ দিন ছুটি বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছুটি মঞ্জুর করায় পুরো এক বছরের ছুটিতে আছেন শাহনাজ আক্তার। ফলে নাদিয়া সুলতানা একাই পুরো হলের দায়িত্ব পালন করেন। একা এত শিক্ষার্থীর সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে নাদিয়াকে।

এ পদে অস্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগও দেয়া হয়নি। ফলে কোন কারণে নাদিয়া সুলতানা অনুপস্থিত থাকলে বেগতিক অবস্থায় পড়েন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ রয়েছে, নাদিয়া সুলতানা সাধারণত অফিসে বসেন না। হলের ভেতরেই এক্সটেনশনের পাশের বাসায় থাকেন তিনি। মেয়েদের কোন প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে তার কোয়ার্টারে যাওয়া লাগে। তার কাছে গেলেও তিনি ভাল আচরণ করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে হলের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হল সুপারকে পাওয়া যায়নি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন কোন সমস্যা নিয়ে হল সুপারের কাছে না গিয়ে সরাসরি হলটির সহকারী আবাসিক শিক্ষক আসমা আহমেদকে অবহিত করেন।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মিতু আক্তার (ছদ্মনাম) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার বছরে তাকে কখনো অফিসে দেখিনি। প্রয়োজনে তার বাসায় কয়েকবার গিয়েছি। প্রতিবারই তিনি ব্যস্ততা দেখান। ভালভাবে কথাটা শুনেন না পর্যন্ত।

অভিযোগের বিষয়ে নাদিয়া সুলতানা বলেন, অন্য সকল কর্মকর্তার কাজের সময় নিদিষ্ট। কিন্তু আমাকে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন মেয়ের সাথে ডিল করতে হয়। এত বেশি কাজের চাপে হয়তো দুইএকজন শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলি। কিন্তু আমিও তো একজন মানুষ, আমার দিকটাও তো বিবেচনা করতে হবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই পদে যত কাজ তাতে দুই জনের পক্ষেই সামলানো দায়। সেখানে একজনকে ছুটি দেওয়ার আগে প্রশাসনের ভাবার প্রয়োজন ছিল। এর আগে আমার মাস্টার্স চলাকালীন সপ্তাহে একদিনের ছুটি চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি। তাহলে এখন কেন একজনকে এত দিনের ছুটি দেওয়া হলো।

হলের প্রভোস্ট নাহিদ হক বলেন, একজন কর্মকর্তার উচ্চশিক্ষার ব্যাপারটি একাডেমিক সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় তার ছুটির পক্ষে আমি ছিলাম না। এই পদের জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সার্টিফিকেট নয়। কিন্তু প্রশাসন তার ছুটি মঞ্জুর করেছে। আমার কিছু করার নেই।

পরে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছিলাম অস্থায়ীভাবে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেটাও সম্ভব হয়নি।

নাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে তার ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছে। আমি তাকে সতর্ক করে দিয়েছি।

হলের কোন কর্মকর্তা শিক্ষা ছুটি নিতে পারেন কি না জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, প্রশাসন চাইলে ছুটি দিতে পারেন। এর আগেও কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম বলেন, অস্থায়ী নিয়োগের ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিষধাজ্ঞা রয়েছে। সেকারণে আমরা নিয়োগ দিতে পারিনি। তবে শীঘ্রই হল প্রভোস্টের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে কি করা যায় তা দেখবো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে