রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

লড়াকু কন্যা নিপুণ নতুন রূপে

জাহাঙ্গীর বিপ্লব
  ০৪ জুন ২০২৩, ১২:২৬
আপডেট  : ০৪ জুন ২০২৩, ১২:২৯
লড়াকু কন্যা নিপুণ নতুন রূপে

একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী নাসরিন আক্তার নিপুণ। চলচ্চিত্র ও দর্শক মহলে যিনি কেবলমাত্র নিপুণ নামেই পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সমিতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এই লড়াকু কন্যা। পাশাপাশি শুটিং এবং ব্যবসার কাজেও বেশ ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।

বর্তমানে এই অভিনেত্রীর হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ। যার মধ্যে অন্যতম একটি চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘আজান’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচনা সৃষ্টি করা ‘মাতৃত্ব’খ্যাত পরিচালক জাহিদ হোসেন সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন নিপুণ আক্তার। চলচ্চিত্রের কাহিনি সম্পর্কে এই অভিনেত্রী জানান, মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়েছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। পাশাপাশি গ্রামের দলিত মানুষ এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষদের অপরাজনীতি আর অপসংস্কৃতির কবলে পরে, নিদারুন কঠিন জীবনযাপনও উঠে এসেছে ‘আজান’ সিনেমাটিতে। গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত কালিগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই চলচ্চিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

নিপুণ এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন মন্তব্য করে পরিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নিপুণ একজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী অভিনেত্রী। নিপুণ যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন তা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করে নিপুণ দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। যে কারণে সিনেমাটি নিয়ে আমি আরও বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছি। আমরা পুরো টিমই আসলে এখন সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় আছি।

আপাতত সিনেমাটির নাম আজান হলেও এর নাম পরিবর্তনও হতে পারে।’

পরিচালক জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে হত্যার পরবর্তীকাল থেকে ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অব্দি সময়কলীন প্রেক্ষাপটে ‘আজান’ চলচ্চিত্রের কাহিনি বিস্তৃত। রেভুলেশন মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল ও শিশির কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমায় নিপুণ ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, নাদের চৌধুরী, কানিজ সুবর্ণা, ইমতিয়াজ বর্ষণ, প্রাপ্তি, জেসমিন, শাওন আশরাফ, মালতি, সাজ্জাদ, জীবন, জাকির, মহারাজ, জলিল, দুলাল, সেকান্দার, শিশু শিল্পী পারভীনসহ আরও অনেকেই।

সিনেমাটিতে একদম অন্যরকম গেটাপ, মেকাপে দেখা যাবে নিপুণকে। আজান নিয়ে নিপুণ নিজেও শতভাগ আশাবাদী। গত বছর শেষের দিকে ‘বীরত্ব’র পর চলতি বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় এই নায়িকার ‘ভাগ্য’ সিনেমাটি। ‘আজান’ ছাড়াও শহিদ রায়হানের ‘মনোলোক’ এবং দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘সুজন মাঝি’ নামের দু’টি সিনেমাও হাতে রয়েছে বলে জানালেন তিনি। এর মাঝে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত একটি জনসচেতনতামূলক ওভিসির কাজ করেছেন এই তারকা।

চলমান সময় ও সিনেমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিপুণ আক্তার বলেন, বর্তমান সময়টা ভালোই কাটছে। কিন্তু ক্রাইসিসও আছে। অভিনয়ের পাশাপাশি টিউলিপ এন্টারটেইনমেন্ট নামের একটি প্রযোজনা সংস্থা আছে।

এছাড়া একটি বিউটি পার্লারও পরিচালনা করছি। এর মধ্যেও বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ করে সিনেমা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও খারাপ লাগে না। সিনেমা আমার প্রাণের জায়গা। এটাই আমার আসল কাজ। আর চলচ্চিত্র বিষয়ে বলব, আমাদের চলচ্চিত্র এখন অনেকখানি বদলে গেছে। এখন কিন্তু নায়ক-নায়িকানির্ভর সিনেমা হচ্ছে না। গল্পই এখন সিনেমার মূল নায়ক। এই গল্পগুলো আরও আগে আসা উচিত ছিল। ১০ বছর আগে এ রকম গল্পভিত্তিক সিনেমা এলে আজ চলচ্চিত্রের এই অবস্থা হতো না। প্রধানমন্ত্রীও সহযোগিতা করছেন। দেরিতে হলেও আমি অনেক আশাবাদী আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে।’

নিপুণ আক্তার উচ্চমাধ্যমিকের পর ১৯৯৯ সালে রাশিয়া চলে যান। মস্কোতে তিনি ২০০৪ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তারপর দেশে এসে সরাসরি যুক্ত হন চলচ্চিত্র পরিবারে। যদিও তার প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘রত্নগর্ভা মা’ মুক্তি না পেলেও বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিসেবে নিপুণ বলেন, ‘চলচ্চিত্র বাঁচলে আমরা বাঁচব। সিনেমা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব, শিল্পীরা ভালো থাকবে আর শিল্পী ভালো থাকলেই তো শিল্পী সমিতিও প্রাণচঞ্চল থাকবে।’

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে