বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে COP ২৮-এ জীবাশ্ম বন্ধ করার দাবি নাগরিক সমাজের

যাযাদি ডেস্ক
  ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:১৫

CPRD’র নেতৃত্বাধীন ৩৩ টি নাগরিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট ‘ক্লালাইমেট জাস্টিস এলাইয়েন্স’র পক্ষ থেকে আসন্ন COP 28এ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে এবং জ্বালানী ব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে আপডেটেড NDCs প্রণয়নে একটি, স্বচ্ছ এবং সুনিদ্রিষ্ট সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছে।

জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে এ নির্দেশণাটি আগামী ২০৩৫ সালের অঙ্গিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং NDCs নবায়নের বেঞ্চমার্কটি হতে হবে ২০৩০ সাল। CSOs জোটি COP 28এ জলবায়ু অর্থায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দাবি করেছে, এবং জলবায়ু অর্থায়নকে স্বীকৃত দিতে এবং প্রয়োজন-ভিত্তিক, জরুরি ও একটি বাধ্যতামূলক পরিপূরক হিসাবে প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান বক্তা জনাব মো: শামসুদ্দোহা বলেন, কনভেনশনের CBDR-RC নীতির সাথে লস এন্ড ড্যামেজ তহবিলকে এলাইন করতে COP 28-এ ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ তহবিলের প্রাতিষ্ঠানিক এবং গভারনেন্স ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস বিষয়ক কো-চেয়ারপারসনের প্রস্তাবকে

বিবেচনা করার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, UNFCCC-এর মূলনীতিগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক এবং জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি সকল উপাদানকে পরিত্যাগ করতে হবে। তিনি L&D তহবিলের একটি স্বাধীন ব্যবস্থা কাঠামো, নমনীয় নিয়ম, কর্মক্ষম নির্দেশিকা, LDCs, SIDS এবং জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির জন্য L&D তহবিলে সহজ অ্যাক্সেসের পদ্ধতি প্রণয়নের দাবি জানান।

শামসুদ্দোহা আরও বলেন, এএগ কে অবশ্যই জীবন, জীবিকা ও বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের ন্যাতিবাচ প্রভাবের বিষয়ে সর্বাধিক নজর দিতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে জনাব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এমপি, COP 28-এর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই অশানুরূপ ফলাফল পায়নি, আমরা যদি এবারের সমঝোতা সম্মেলনেও সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে যেতে না পারি তাহলে আমরা কোন উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে আসতে পারব না।

তিনি আরও বলেন ‘ক্লালাইমেট জাস্টিস এলাইয়েন্স’র এ প্রস্তাবনাগুলো আমাদের এবারের COP এ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা জানি বর্তমানে অভিযোজন গ্যাপ আছে, প্রশমনের গ্যাপ আছে, অর্থের একটি বড় অভাব আছে কিস্তু আমাদের সবচেয়ে বড় গ্যাপ হলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক বিশ্বাস।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করার জন্য বাংলাদেশ একটি নেতৃস্থানীয় দেশ এবং বাংলাদেশের এই অবস্থান ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আমরা ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তর থেকে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণয়ন করে ফেলেছি এবং এর ফলেই দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে আমরা অভিযোজনের কঠিন সীমায় পৌঁছে গেছি, এবং এই অবস্থায় কার্বন নির্গমণ রোধে যথেষ্ট মনযোগ না দিতে পারলে আমাদের আরও ভূগতে হবে।

ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার অর্জনে CSO-দের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে সিপিআরডির নেতৃত্বাধীন জোট এ ব্যাপারে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে, আমি প্রস্তাবিত সুপারিশগুলির প্রশংসা করি এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা সমস্ত সুপারিশগুলি সরকারি প্রতিনিধিদের মনযোগ দিয়ে পড়া উচিত।

জনাব ধরিত্রী কুমার সরকার, উপসচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক চাহিদাগুলো দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে, কিন্তু অভিযোজন ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনকে স্বীকার করলেও, তারা এখনও সঠিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ন্যাতীবাচক প্রভাবগুলিকে স্বীকার করছে না, এই স্পষ্টতই তাদের একটি দ্বিচারীতা।

আজ রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে মহাখালীতে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’র নতৃত্বাধীন ৩৩টি নাগরিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট COP 28: Articulating CSOs ” শীর্ষক একটি গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করে। COP 28-এ নাগরিক সংগঠনসমূহের দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপনে এ বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি। এছাড়া ড: ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, ডেপুটি ম্যানিজিং ডিরেক্টর, পিকেএসএফ, খোদেজা সুলতানা লোপা, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ডিয়াকোনিয়া, ওয়াটার এইড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাবা হাসিন জাহান, ডঃ গোলাম রব্বানী, প্রধান এইঋ তহবিল, জনাব ধরিত্রী কুমার সরকার, উপসচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, এছাড়া গোলটেবিল বৈঠকটিতে নাগরিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের নীতিনির্ধারনী ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে