বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্য প্রবাহ ; জেঁকে বসেছে শীত

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা
  ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮:৩০

চলতি সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্য প্রবাহ আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ মঙ্গলবার ( ১২ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টা ও ৯ টায় এ জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াম।

চুয়াডাঙ্গায় অগ্রহায়ণের শেষে এসে শীত জেঁকে বসেছে। দ্রুত কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বাতাস শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যা নেমে আসার পরপরই শুরু হচ্ছে কুয়াশা। সকালে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশার আধিক্য থাকছে প্রকৃতিতে। এ সময় সড়কে হেড লাইট জ্বেলে চলাচল করছে গাড়ী।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সিনিয়র পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। ওই দিন সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস,বাতাসের তাপমাত্রা ছিল ৯২ শতাংশ।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা রয়েছে ৯১ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

আজ মঙ্গলবার ( ১২ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় ও ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, চলতি সপ্তাহে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাবে এ জেলার উপর দিয়ে।

হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারনে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে মানুষের। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

দর্শনার দিনমজুর বাবর আলী বলেন, সকাণে কাজে বের হতে পারিনি। রোদ পোহাচ্ছি। হাটে হাটে তালা- চাবি মেরামত করেন আকনাদবাড়ীয়ার আঃ রাজ্জাক। তিনি বলেন, শীতে সকালে সাইকেল চালিয়ে যেতে বেশ কষ্ট হয়। তবুও পেটের ধান্দায় বের হতে হয়।

বেগমপুরের হকার সাদেক আলী বলেন, সকাল ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। পুরনো ভাংড়ি জিনিস কিনবো। কিন্তু শীতে সকাল সকার গ্রাম ঘুরতে কষ্ট হচ্ছে।

গ্রামে গ্রামে সাইকেল চালিয়ে ঝুরি ভাঁজা বিক্রি করেন লোকনাথপুরের আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, শীতে সকালে বের হওয়াই কষ্ট।

ইটভাটার শ্রমিক ঈশ্বরচন্দ্রপুরের তরিকুল বলেন, ভোরে কাজে আসতে হয়। কাঁদা- মাটির কাজ করতে হয। শীতে হাত-পা টালিয়ে ( ঠান্ডায় জমে যাওয়া) যায়।

হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডাঃ মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, প্রায় শ' খানেক শিশু ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন বর্হিবিভাগে দেড়'শ থেকে দু'শ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে