সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
walton

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মনপুরায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা

সীমান্ত হেলাল, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
  ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩২
মনপুরা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সুদৃশ্য ভবন।

ঝকঝকে সুন্দর ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও বহু পদশুন্য থাকায় জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ভোলার মনপুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফপি), সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, ইউনিয়ন সুপার ভাইজার (এফপিআই), পরিবার কল্যাণ সহকারী (মাঠকর্মি), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (মাঠকর্মি), উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল সহকারী (সেকমো) ও অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদে দীর্ঘদিন ধরে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী পদশুন্য থাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবাবঞ্চিত হচ্ছে দ্বীপ উপজেলার মানুষ। এদিকে প্রত্যেক পদে একাধিক জনবল সংকট থাকায় সেবা কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) ও ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল সহকারী (সেকমো) থাকার কথা থাকলে নেই কোন কর্মি। এই কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে ৩ জন এনজিও কর্মি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব এনজিও কর্মিদের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন সেবা দেয়া হয়। পাশাপাশি সন্তান প্রসবকালীন সময়ে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারী) সেবা দেয়া হচ্ছে।

মনপুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারী-পুরুষদের মাঝে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান, মাতৃত্বকালীন সেবা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সর্বমোট পদ রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১ জন, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১ জন। কিন্তু মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফপি) ১ জন থাকার কথা থাকলেও পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে। স্থায়ী মেডিকেল অফিসার না থাকায় পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতিসমূহ বন্ধ রয়েছে। মাঝেমাঝে অন্য উপজেলা থেকে ডাক্তার এনে ক্যাম্প করানো হয়।

এছাড়াও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী ৩ জন কর্মরত আছেন। সহকারী পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ১ জন থাকার কথা থাকলেও পদটিতে কখনোই কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ইউনিয়ন সুপার ভাইজার (এফপিআই) ৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ২ জন। পরিবার কল্যাণ সহকারী (মাঠকর্মি) ১০ জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৬ জন। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (মাঠকর্মি) ৩ জনের মধ্যে ৩টি পদই শুন্য রয়েছে দীর্ঘনি যাবৎ। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) পদটিতে ১ জনের স্থলে রয়েছে পদশুন্য। এছাড়াও ২ জন অফিস সহায়কের স্থলে নেই কোন লোকবল। উপজেলা সদর ক্লিনিকে ১ জন আয়া ছাড়া নেই কোন কর্মি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সুদৃশ্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রকৃত অর্থে পরিবার পরিকল্পনা সেবাবঞ্চিত হচ্ছে মনপুরা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। এই কার্যালয়ে মোট ২৮টি পদ থাকলেও সেবামূলক ১৩টি পদ শুন্য রয়েছে। শুন্য পদগুলো সেবা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় কার্যত অকার্যকর ও স্থবির হয়ে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদ বলেন, আমাদের উপজেলা কার্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঔষধ রয়েছে। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত জনবল সংকট নিরসন হবে।

উল্লেখ্য; ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিয়োগ দেয়া হলেও মনপুরা কার্যালয়ে কাউকে পদায়ন করা হয়নি।

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে