শুভ জন্মদিন

ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্যের নায়ক সজীব ওয়াজেদ জয়

ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্যের নায়ক সজীব ওয়াজেদ জয়

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার পুত্র। জয়ের নামকরণের স্মৃতিচারণ করে তার মা (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী) দলীয় নেতাকর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বলেন, 'ওকে পেয়ে আমরা বন্দিখানার মধ্যে সজীবতা পেয়েছিলাম। তাই মা (বেগম মুজিব) নাম রেখেছিলেন সজীব। আর নানা (বঙ্গবন্ধু) রেখেছিলেন জয়।' তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের দিনই বঙ্গবন্ধু তার নাতির নাম ঠিক করে দেন। 'সেদিন আব্বা বলেছিলেন,আমি থাকব কিনা জানি না, দেখতে পারব কিনা জানি না। তোর ছেলে হবে। সে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হবে। ছেলের নাম রাখবি জয়।' সজীব ওয়াজেদ জয়, শৈশব ও কৈশোরের দীর্ঘ একটা সময় ভারতে পড়ালেখা করেন। নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় উপমহাদেশের একটি বিখ্যাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি মেধা যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরতে পেরেছেন। তার মধ্যে আছে নানা বঙ্গবন্ধুর ছায়া। বঙ্গবন্ধু যেমন স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করবেন, বাংলার জনগণকে মুক্তি দেবেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ও তেমনি স্বপ্ন দেখেন তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা গড়ে তুলবেন। তিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন, বাংলার মানুষকে স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় গতানুগতিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও তিনি সবসময় রাজনীতির মধ্যেই আছেন। তিনি চিন্তা করেন বাংলাদেশকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তরুণ জনগোষ্ঠীকে আরও দেশের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাদের মেধা ও মননকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে জনসম্পদে তৈরি করা যায়। তিনি মূলত তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি তরুণদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন। তাদের মতামত, পরামর্শ শুনেন। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের নেতা তরুণরাই। তারাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ তাদের কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের উন্নতি কেউ রোধ করতে পারবে না। সে বিশ্বাস থেকেই তিনি তরুণদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে 'দিন বদলের সনদ' ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণাকে দেয়া হয়। নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রম্নয়ারি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে অবৈতনিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। এখন পর্যন্ত সে দায়িত্ব তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রীকে নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। শুরু থেকেই তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের সামগ্রিক কর্মকান্ডকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছেন। প্রথমত, ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি চালু। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের সব কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবকিছু ডিজিটালাইজড করা। দ্বিতীয়ত, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চালু। যাতে করে প্রতিটি শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনেই প্রযুক্তি শিক্ষার জ্ঞানার্জন করতে পারে। তৃতীয়ত, তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। চতুর্থত, আইটি পার্ক গড়ে তোলা। পঞ্চমত, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তিনি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন। বর্তমান সরকারের বিগত একযুগে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রযুক্তির প্রতিটি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির ভিত দিন দিন আরও শক্ত হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিং সেবা গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। খোলা হয়েছে ৭ কোটিরও বেশি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব। এজেন্ট ব্যাংকিং আর্থিক খাতে সঞ্চার করেছে নতুন গতি। এক কোটিরও বেশি কৃষকের আছে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব। ব্যাংকের মাধ্যমে হস্তান্তর হচ্ছে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা। প্রতিটি জেলাকে ফাইবার অপটিক সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। জনগণের তথ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে 'জাতীয় তথ্য বাতায়ন'। প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সার্ভিস ও তথ্য সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রামীণ মানুষ ই-সেবা নিচ্ছেন। ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো ও ব্যয় কমানো হয়েছে। ফোরজি মোবাইল সেবার পর ফাইভজি-র পথে বাংলাদেশ। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ভর্তি ফরম পূরণ, পরীক্ষার ফলপ্রাপ্তি এমনকি করোনাকালে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ঘরে বসেই দিচ্ছে ক্লাস-পরীক্ষা। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে পরিশোধ করতে হয় না পানি-বিদু্যৎ-গ্যাসের বিল। মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে যানবাহনের সুযোগ পাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রাপথ হচ্ছে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। মোবাইল মানি অর্ডার, ই-টেন্ডার, সরকারি ই-মেইলের মাধ্যমে হচ্ছে তথ্য আদান-প্রদান। যে কোনো পণ্যের অনলাইন ব্যবসা এখন খুবই জনপ্রিয়, নারী-পুরুষ উভয়ই এসব ব্যবসার অংশীদার। করোনাকালে ডাক্তাররা চালু করেছে টেলিমেডিসিন সেবা। অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল, অনলাইন ট্যাক্সের সুযোগের কারণে হয়রানি কমছে, অন্যদিকে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন প্রায় ৬০০ সরকারি সেবা অনলাইনেই পাচ্ছেন নাগরিকরা। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরণের ফলে ৫৭তম এলিট ক্লাবের সদস্য আজ বাংলাদেশ। এ সবকিছুর কৃতিত্বই সজীব ওয়াজেদ জয়ের। ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে পুরো বিশ্ব আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। একটি মোবাইল ফোনের মধ্যেই আছে পুরো বিশ্বের খবরা খবর। প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। শহর আর গ্রামের ব্যবধান কমে গেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে গ্রামেই লাখ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। লেখাপড়া করে বেকার না থেকে নিজেরাই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। \হদেশে বিপিও খাতে এখন প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়। এই খাতে ৫০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে আইসিটি খাতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই খাতে আরও ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির কাজ চলছে। খুব কম সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে গার্মেন্টস সেক্টরকে টক্কর দিচ্ছে প্রযুক্তি খাত। হতাশ তরুণদের মাঝে আশার আলো নিয়ে এসেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঠিক সময়োপযোগী ও দিকনির্দশনামূলক সিদ্ধান্তের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য তিনিও পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্মান ও স্বীকৃতি। ২০০৭ সালে তাকে 'ইয়াং গেস্নাবাল লিডার' নির্বাচন করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই সম্মান পান। ২০১৬ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগের স্বীকৃতি স্বরূপ 'ডেভলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর আইসিটি' সম্মাননা পান সজীব ওয়াজেদ জয়। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, পস্নান ট্রিফিনিও, গেস্নাবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট স্টেটের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে প্রথমবারের মতো বিশ্বের কাউকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করে। বাংলাদেশ এখন উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিপস্নব। অন্যদিকে নেপথ্যে থেকে যিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখে দেশের জন্য নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশের সম্পদে পরিণত করতে রেখে যাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। \হদেশের যে কোনো সংকটে নানা (বঙ্গবন্ধু) ও মা (দেশরত্ন শেখ হাসিনা)-র মতোই জনগণের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন। ১/১১-র সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আবার মৌলবাদীদের আস্ফালনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, 'বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে কখনো সরে আসবে না। আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙালি।'এটাই আমাদের পরিচয়। সজীব ওয়াজেদ জয় চাইলেই বড় বড় পদ নিয়ে ক্ষমতাবান হতে পারতেন। কিন্তু তথাকথিত রাজনীতিবিদদের মতো সে পথে যাননি। তিনি নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। একযুগ ধরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় কিন্তু তিনি কখনো ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ করতে চাননি। ক্ষমতার উত্তাপকে সুকৌশলে এড়িয়ে চলছেন। তিনি আগামী বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কোটি কোটি যুবকের মধ্যে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে আইডল, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্যের নায়ক সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিনে জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাপস হালদার : সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে