বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

যেভাবে ধরা পড়লো মৃত নারী ধর্ষণে অভিযুক্ত ডোম

যেভাবে ধরা পড়লো মৃত নারী ধর্ষণে অভিযুক্ত ডোম

ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া নারীদের লাশের সাথে ‘যৌন লালসা চরিতার্থ’ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার একজনকে গ্রেফতার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

সিআইডির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালে মর্গে ডোমের (ময়নাতদন্তের জন্য যারা লাশ কাটেন) সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সিআইডি'র ধারণা, অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের লাশের সাথে যৌন মিলন করে আসছিলেন অভিযুক্ত।

যেভাবে ধরা পড়লো অভিযুক্ত

সিআইডি’র ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের অগষ্ট পর্যন্ত একটি মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাওয়া মৃত নারীদের দেহে পুরুষ শুক্রানুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। কিন্তু একাধিক নারীর লাশে একজন পুরুষের শুক্রানুর উপস্থিতি তাদের চমকে দেয়। তারা ওই পুরুষকে চিহ্নিত করার জন্য মাঠে নামে।

বিবৃতিতে সিআইডি বলেছে, লাশে পাওয়া শুক্রানুর ওপর ভিত্তি করে ওই পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যায়। প্রাথমিকভাবে সিআইডি'র ধারণা ছিল প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে অথবা হত্যার পর ধর্ষণ করেছে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পর সিআইডি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যেকোনো একজন ব্যক্তি লাশের ওপর ‘বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ’ করছে। পরে সিআইডি'র গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে প্রত্যেক ভুক্তভোগীর লাশের ময়নাতদন্ত একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া লাশের ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশে পরের দিন মর্গে রেখে দেয়া হতো।

মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে। সন্দেহের ভিত্তিতে ওই নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা। ওই তদন্তের সময় জানা যায় হাসপতালটির একজন ডোম পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর লাশ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।

এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয় অভিযুক্ত ডোম এই অপরাধের সাথে জড়িত। অভিযুক্ত যুবক তদন্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গা ঢাকা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।

সূত্র : বিবিসি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে