পাপুলের আসনে উপনির্বাচনে বাধা নেই

পাপুলের আসনে উপনির্বাচনে বাধা নেই

অর্থ ও মানবপাচারের দায়ে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করে জারি করা গেজেট এবং উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আগামী ২১ জুন ভোট গ্রহণে কোনো বাধা নেই।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

হাইকোর্টে ওই রিট খারিজের পরে পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক শাহাদাত হোসেনের করা আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আপিল আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সরোয়ার পায়েল।

এর আগে গত ৮ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রিট খারিজ করেছিলেন। এরপর তারা আপিল বিভাগে আবারও আবেদন করেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরুতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই মামলায় তিনি কুয়েতে গ্রেফতার হন।

গত ২৮ জানুয়ারি শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। ২০২০ সালের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সাড়ে সাত মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্যের বিদেশে গ্রেফতার এবং ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর পদ হারানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

২২ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান একটি গেজেট জারি করেন। ওই গেজেটে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতের গত ২৮ জানুয়ারি ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন। সেই কারণে সংবিধানের ৬৭ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ ২৮ জানুয়ারি থেকে তার আসন শূন্য হয়েছে।

এরপর ৪ মার্চ নির্বাচন কমিশন ওই আসনে ১১ এপ্রিল উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে আগামী ২১ জুন নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক শাহাদাত হোসেন রিট করেন।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে