কর্মসৃজনে কর্মসংস্থান ব্যাংক

কর্মসংস্থান ব্যাংক বেকারত্ব দূরীকরণে উৎপাদনমুখী, সেবা ও ব্যবসায়িক খাতে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক সরল সুদে ও সহজশর্তে জামানতবিহীন ঋণ ২.০০ লাখ টাকা থেকে ৫.০০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
কর্মসৃজনে কর্মসংস্থান ব্যাংক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশের বেকার বিশেষ করে বেকার যুবদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের ৭নং আইন বলে কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১,০০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা। ১৯৯৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ঋণের চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান ব্যাংকের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ প্রদানের টার্গেট গ্রম্নপহলো যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেকার যুবক ও যুব মহিলা। ব্যাংক বেকারত্ব দূরীকরণে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি এসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় উদ্যোক্তাদের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক বেকারত্ব দূরীকরণে উৎপাদনমুখী, সেবা ও ব্যবসায়িক খাতে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক সরল সুদে ও সহজশর্তে জামানতবিহীন ঋণ ২.০০ লাখ টাকা থেকে ৫.০০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

দেশের বেকার ও অর্ধবেকারদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ব্যাংক সহজশর্তে ঋণ প্রদান করে আসছে। ব্যাংকের বর্তমান ঋণ স্থিতি ১,৮৯৫.৩২ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান ব্যাংক শুরু থেকে ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখ পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে ৬,৫৭,৮৩০ জন ঋণ গ্রহীতাসহ পরোক্ষভাবে মোট ২৩,৭৪,৭৬৬ জন লোকের কর্মসংস্থান করেছে। একই সময়ে ব্যাংক ৬৯৬৪.৬৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের পাশাপাশি ৬১৫০.৪৬ কোটি টাকা ঋণ আদায় করেছে। ব্যাংকের ঋণ আদায় হার ৯৫%।

দেশব্যাপী ২৫১টি শাখার মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ব্যাংকের অপারেটিং মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৪২.১৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালের মধ্যে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ৩০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এবং কর্মপ্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনয়ন, সৃজনশীল সংস্কৃতি ও ক্ষেত্র গড়ে তুলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মানসে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কর্মসংস্থান ব্যাংকের নিজস্ব ওঈঞ ঝবপঁৎরঃু চড়ষরপু তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংকের নিজস্ব ০৬টি (ছয়) সফটওয়্যার দ্বারা বর্তমানে ১১০টি শাখায় কেবিসিবিএসের (কইঈইঝ) মাধ্যমে লাইভ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ দেশের বেকার যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে 'বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ' নামে একটি নতুন ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই নীতিমালার আওতায় ৯% সরল সুদে ২.০০ (দুই) লাখ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবদের মধ্যে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের বিশদ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, বিডা, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ঝউঋ)সহ অন্যান্য সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে জেলাভিত্তিক ৭ লাখ ৪৪ হাজার প্রশিক্ষিত বেকার যুবদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে এবং ডাটা হালনাগাদকরণ অব্যাহত আছে। উক্ত কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং ঝউঋ-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৭২৬৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবদের মধ্যে ১০০.২০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। মুজিববর্ষে কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত 'বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ' কর্মসূচিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঝঃধৎঃ ঁঢ় প্রোগ্রাম হিসাবে অভিহিত করে এর সফল বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নভেল করোনাভাইরাস (ঈঙঠওউ- ১৯) ডিজিজ বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ঈঙঠওউ- ১৯ এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের অনুকূলে ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকা বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং ব্যাংকের তহবিল ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। উলেস্নখ্য, ওই প্রণোদনার আওতায় ইতিমধ্যে ২৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৫০০ কোটি টাকা, ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে গড়ে ১.০০ (এক) লাখ টাকা হিসাবে বিতরণের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ৫০,০০০ জন এবং পরোক্ষভাবে ১,৮০,০০০ জনলোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মো. তাজুল ইসলাম : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা

সফ@শন.মড়া.নফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে