আবারও রক্তাক্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কঠোর নজরদারি জরুরি
আবারও রক্তাক্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প

আবারও রক্তাক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় চালানো হামলায় সাত রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃতু্য হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। হামলায় নিহতরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের মধ্যে এক কিশোরও রয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর বস্নকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুলস্নাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যকান্ডের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ অবস্থার মধ্যেই শুক্রবার ভোরে ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ঘটল। এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালে যাদের 'স্বার্থে আঘাত লাগবে' তারাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে 'বিশৃঙ্খলা' ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অনেক লোক মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায় না। তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তারাই হয়তো এসব অঘটন ঘটাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

উলেস্নখ্য, কিছুদিন আগে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এক সময় রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও অবস্থান পরিবর্তন করে ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো জাতিসংঘ। এজন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে।

উলেস্নখ্য, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ কর্তৃক কক্সবাজারের ন্যায় ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালিত হবে। বেসামরিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, চিকিৎসা, মিয়ানমার কারিকুলাম ও ভাষায় এফডিএমএনদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে ভাসানচরে; যে কাজটি এতদিন সরকার একাই করে আসছিল। এমন একটি ইতিবাচক খবরের মাঝে আবারও রক্তাক্ত হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প।

এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন, মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে রয়েছে। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে যোগ হয় আরও ৭ লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখ রোহিঙ্গার সহায়তায় জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছিল। তবে কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার যখন রোহিঙ্গাদের একাংশকে নোয়াখালীর জনবিরল দ্বীপ ভাসানচরে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তাতে বিরোধিতা করে বিশ্ব সংস্থাটি। এর মধ্যে গত দেড় বছরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে মানানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়, আর তাতে সফলতাও এলো।

জনসংখ্যার অতি ঘনবসতি ও পরিবেশের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাসানচরে ১৪৪০টি আশ্রয়গৃহ ও ১২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২৪ পরিবারের ১৮ হাজার ৮৪৬ জনকে সেখানে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ক্যাম্পে কয়েকটি গ্রম্নপ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবার চালান এনে ক্যাম্পে মজুত রাখেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যেও ক্যাম্পে ইয়াবা চালান, মজুত এবং লেনদেন করেন তারা। রোহিঙ্গারা এখন আমাদের গলার কাঁটা ও বিষফোড়া। শেখ হাসিনার মানবতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক নয়। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই নীতিতে তিনি বিশ্বাসী। আর এই কারণেই তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এখন বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উচিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং রোহিঙ্গাদের মনে আস্থার দেয়াল তৈরি করা। এর কোনো বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে